Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ মার্চ, ২০১৭ ২২:৪২
বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ৪০ কাউন্সিলর প্রার্থী
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক) ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৯ সাধারণ ও ৪১ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪০ জন বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে ১০ জন বইছেন ৩ থেকে ৩১টি করে মামলার ভার।

বাকি ৩০ জনের বিরুদ্ধে ১ থেকে ৩টি করে মামলা। বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একসময় মামলা ছিল এখন নেই। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামিও রয়েছেন কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, পুশিলের ওপর হামলা, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের মামলা। প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র আরও জানায়, কিছু মামলা রাজনৈতিক, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের কয়েকজন মামলা থেকে খালাস অবস্থায় রয়েছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত কাজী মো. গোলাম কিবরিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত মো. বিল্লাল, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার মাহমুদ জাবেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত দেলোয়ার হোসেন। একই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. সোহেলে বিরুদ্ধে রয়েছে ৭ মামলা। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থীদের মধ্যে মামলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বাধিক মামলা রয়েছে ছোটরা এলাকার জংলিবিবি মসজিদ রোডের বাসিন্দা বসু মিয়ার ছেলে মো. বিল্লালের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা ৩১টি। তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিল প্রার্থী। দ্রুত বিচার, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়। তার মধ্যে ৩টিতে তিনি খালাস হন। এখনো তার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা চলমান। দ্রুত বিচার, বিস্ফোরক, অস্ত্র, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে এসব মামলায়। তিনি নগরীর বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকার কাজী আবুল বাশারের ছেলে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা। তিনি ওই ওয়ার্ডের দ্বিতীয় কান্দিরপাড় পলাশবাড়ির বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোহাম্মদ হোসেন (মৃত)। বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত তিনি।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী সরকার মাহমুদ জাভেদ ১৪টি মামলায় জড়িয়েছিলেন। এখন তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দ্রুত বিচারসহ নানা অভিযোগে এ মামলাগুলো ছিল। তিনি নগরীর শাসনগাছা-রেসকোর্স এলাকার সরকার আবদুর রউফের ছেলে।

১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। সব কটি মামলাই চলমান। বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস, বিস্ফোরকসহ নানা অভিযোগে এ মামলাগুলো তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। তিনি নগরীর নেউরা উত্তরপাড়ার আবদুল মান্নানের ছেলে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। তিনি নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার মৃত নূর মিয়ার ছেলে। সন্ত্রাসসহ নানা অভিযোগে ওইসব মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থী মো. সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা ৫টি। তিনি পাথুরিয়াপাড়ার মৃত শাহজাহানের ছেলে। বিভিন্ন ধারায় ওইসব মামলায় তাকে অব্যাহতি ও খালাস দেওয়া হয়। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে মামলা ৫টি। সন্ত্রাস, দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে এ মামলাগুলো হয়। তিনি গোয়ালমথন এলাকার মন্তু মিয়ার ছেলে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১টি। তাতে তিনি খালাস হন। তিনি বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার লোকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুর রহমান মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তা নিষ্পত্তি হয়। তিনি ছোটরা পশ্চিমপাড়ার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুজ্জামান পিয়ালের বিরুদ্ধে ১টি মামলা বিচারাধীন। তিনি শামনগাছা-রেসকোর্স এলাকার আবদুস সাত্তারে ছেলে। একই ওয়ার্ডে কাউন্সিল প্রার্থী এনামুল হক ভূইয়ার বিরুদ্ধে ১টি মামলা ছিল। ওই মামলায় তিনি খালাস হন। তিনি কালিয়াজুরীর মোনাজাত উদ্দিনের ছেলে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সির প্রার্থী মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা হয়। তিনি কাপ্তানবাজার এলাকার মৃত রেয়াছত আলীর ছেলে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সির প্রার্থী এ কে সামাদ সাগরের বিরুদ্ধে ১টি মামলা হয়। ওই মামলা থেকে তিনি খালাস পান। তিনি গাংচর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সির প্রার্থী অতিকুর রহমান পিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা হয় ৪টি। এর মধ্যে ২টিতে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। চলমান রয়েছে ২টি। তিনি অশোকতলার মৃত ফিরোজ খানের ছেলে। একই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী বেলাল আহমেদ খানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২টি। তিনি গোবিন্দপুরের কাজী সৈয়দ আহমেদ খানের ছেলে। একই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল আলমের বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৪টি। সব কটিতেই তিনি খালাস হন। তিনি গোবিন্দপুরের সুলতান আহমেদ খানের ছেলে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুন নবীর বিরুদ্ধে মামলা হয় ৩টি। সব কটিতেই খালাস হন। তিনি রামমালা রোডের দ্বিতীয় কান্দিরপাড়ের সুলতান আহমেদের ছেলে।

একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিধান চন্দের বিরুদ্ধে ১টি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি নগরীর দ্বিতীয় কান্দিরপাড়ের অমিত চন্দ দাসের ছেলে। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি সংরাইশ এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আফসান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি নগরীর নূরপুরের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এম হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের আবদুস সালামের ছেলে। একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহজাহান সিরাজীর বিরুদ্ধে মামলা হয় একটি। তিনি বজ পুরের আলী মিয়ার ছেলে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল প্রার্থী মো. শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২টি। এর মধ্যে ১টি চলমান ও ১টিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি দক্ষিণ চর্থার আমীর আলী খানের ছেলে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তাতে তিনি খালাস হন। তিনি বজ পুরের কাজী নূরুল হকের ছেলে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর আল আমিন সাদীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ২টি। ২টি মামলা থেকেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি নগরীর মুন্সেফবাড়ী এলাকার এ বি এম সালেহীনের ছেলে।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবদুল কাদের জিলানীর বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি সালমানপুরের আবদুল জলিলের ছেলে। একই ওয়ার্ডের এম ডি আরিফ বখশীর বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি রামপুরের মোহাম্মদ আলী বখশীর ছেলে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  প্রার্থী আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা হয়। তিনি মধ্যম আশ্রাপুরের  মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ২টি মামলায়ই তাকে খালাস দেওয়া হয়। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের মজুমদার বুলুর বিরুদ্ধে ১টি মামলা হয়। তা থেকে তিনি খালাসও হন। তিনি শ্রীভল্লবপুরের মৃত ছালামত উল্লাহ মজুমদারে ছেলে।

একই ওয়ার্ডের কাউন্সিল প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা হয়। তিনি খালাস পেয়েছেন। তিনি দৈয়ারা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সির প্রার্থী মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয় ৩টি। বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। তিনি বাতাবাড়িয়ার মৃত মো. ছাদেক আহাম্মদের ছেলে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিল্লুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি চৌয়ারার মো. মোখলেছুর রহমানের ছেলে। একই ওয়ার্ডের খলিলুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধেও মামলা হয় ১টি। তিনি চৌয়ারার সেকান্দর আলীর ছেলে।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কফিল উদ্দিন মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি গোয়ালমথন এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম সারোয়ার কাউসারের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১টি। তিনি ভল্লবপুরে আবদুর রউফের ছেলে।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সির প্রার্থী মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা হয় ৩টি। তিনি রায়পুরের আনু মিয়ার ছেলে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘কোন কোন প্রার্থী অভিযুক্ত এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারেন তা আমরা নজরদারি করছি, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’

up-arrow