Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৬
রঙের ছটায় রঙিন দোল
নিজস্ব প্রতিবেদক
রঙের ছটায় রঙিন দোল
দোল উৎসবে গতকাল মেতে উঠেছিল ঢাকেশ্বরী মন্দির —রোহেত রাজীব

ঋতুরাজ বসন্তের পালকে হাজারো রং ছড়িয়ে উৎসব আনন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দোল উৎসব। ধর্ম-বর্ণ, তরুণ-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একে অন্যকে রং মাখিয়ে মেতেছেন আনন্দ উদযাপনে।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় গতকাল ছিল দোল উৎসবের ব্যাপক আয়োজন। হাজার রঙের বেলুন, পিচকিরি আর আবির হাতে ছুটে বেড়াতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষকে। আনন্দ গানে মেতে রং মাখিয়ে দিচ্ছেন পথে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের। আর এ আনন্দে শামিল হয়ে তালমেলাচ্ছে অচেনা পথিকও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্বরে দেখা যায়, বন্ধুদের রং মাখিয়ে দিয়ে হলি অর্থাৎ দোল উৎসবে মেতে উঠেছে এক ঝাঁক শিক্ষার্থী। রং না লাগানোর ভয়ে প্রাণপণে ছুটছেন অনেকেই। কিন্তু রেহাই নেই বন্ধুদের হাত থেকে। এভাবে রঙের ছটায় উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে ইট-পাথরের কঠিন কোণায়। রং মেখে সঙ সেজেছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নিশিতা। তিনি একা নন তার সঙ্গে আছেন শোয়েব, রাহি, পূজাসহ আরও অনেকে। রকমারি রঙে কারও মুখ দেখে চেনার উপায় নেই। আর ঝাঁক ধরে গান ধরছে, ‘খেলবো হলি রং দেবো না তাই কখনো হয়’। হাতে রং নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাহুল, পরিচিত কাউকে দেখলেই রং মাখানোই তার কাজ। প্রতিবছরই এরকম মজা করে কি না জিজ্ঞেস করলে হাসি মুখে জানায়, কলেজে পড়তে কলেজের বন্ধুদের রং মাখাতাম, এখন ক্যাম্পাসের বন্ধুদের মাখাই। জায়গা পাল্টেছে কিন্তু উৎসব-আনন্দ তো আর পাল্টে যাবে না। পড়াশোনার ফাঁকে এই স্মৃতিগুলোই বন্ধুত্বের সম্বল। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে আবিরের রঙে মুখ রাঙাতে। সনাতন ধর্মমতে, তৎসম শব্দ ‘হোরি’র অপভ্রংশ থেকে এসেছে হোলি শব্দটি। সেখান থেকে হোলক, হোলিকা, যার অর্থ ডাইনি। স্কন্দপুরাণের ফাল্গুন মাহাত্ম্য অংশের হোলিকা বধ কাহিনী থেকেই এ উৎসবের উৎপত্তি বলে পণ্ডিতদের ভাষ্য। বৈষ্ণব বিশ্বাসীদের অনেকে একে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমার এ তিথিতে ‘কলিযুগের অবতার’ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মতিথি থাকায় আনন্দের পাশাপাশি ধর্মীয় আচারও পালন করেন তারা। রাজধানীতে এ বছর দোল উৎসবের মূল আয়োজন ছিল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। মন্দিরের নিত্য পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু করেন মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় বিশ্বশান্তি কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হয়। রাজধানীর বেশ কয়েকটি মন্দিরে ভোগ এবং পূজার আয়োজন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow