Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৯
স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নিরসনে বৈঠকে শেখ হাসিনা
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে গণভবনে ডেকে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লার আওয়ামী রাজনীতিতে আফজল-বাহার দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে এই দ্বন্দ্বটা আরও প্রকট আকার ধারণ করে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সিটিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবীণ নেতা আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা। এ নিয়ে বাহার গ্রুপের নেতা-কর্মীরা মনোক্ষুণ্ন হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রের ধারণা, বাহার গ্রুপ সক্রিয়ভাবে মাঠে না নামলে দলীয় প্রার্থীর বিজয় কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য বাহারের কর্মী-সমর্থকদের  সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে গতকাল গণভবনে বাহারকে ডেকে পাঠান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যার পর গণভবনে ঢোকেন কুমিল্লা সদর আসনের এই এমপি। রাত সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট তাদের মধ্যে কথা হয় বলে জানা গেছে। গণভবন সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। এ জন্য সব মান-অভিমান ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেছেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। সবাইকে নৌকার জন্য কাজ করতে হবে। জবাবে বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, নেত্রীর যেখানে নৌকা, সেখানে আমি। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, নৌকার বাইরে কখনই ছিলাম না আগামীতেও যাব না। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেব। ৩০ মার্চ আপনাকে নৌকা উপহার দিতে পারব ইনশাল্লাহ।

মাধ্যমিক পার হতে পারেননি  ৫২ কাউন্সিলর প্রার্থী  : আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি সাধারণ ও নয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ১৮১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি ৫২ জন প্রার্থী।   আবার কেউ কেউ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্নও রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪০ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বোচ্চ অষ্টম শ্রেণি থেকে সর্বনিম্ন অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন পর্যন্ত। ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জন্য নির্বাচন করছেন ৪১ জন নারী প্রার্থী। এদের মধ্যে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি ১২ প্রার্থী। সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ঝরনা আক্তার অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি ছোটরার হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিমা জামান অষ্টম শ্রেণিপাস। তিনি ভাটপাড়ার আবদুল ওয়াহেদের স্ত্রী। সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শাহীন আক্তার সপ্তম শ্রেণি পাস। তিনি উত্তর গাংচরের শাহাবুদ্দিন খানের স্ত্রী। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী শামসুন্নাহার অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি রাজবাড়ী কম্পাউন্ডের সগীর আহমেদের স্ত্রী। এই ওয়ার্ডের অপর প্রার্থী হাসিনা আক্তার অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি চাঁদপুর-শুভপুরের নুরুজ্জামানের স্ত্রী। সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী নিলুফা আক্তার স্বশিক্ষিত। তিনি অশোকতলার মো. মোস্তফা কামালের স্ত্রী। সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জ্যোত্স্না আক্তার স্বশিক্ষিত। তিনি ধর্মসাগরপাড়ের এ জেড এম মহিউদ্দিনর স্ত্রী।

 সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অপর প্রার্থী নূরজাহান আলম পুতুল অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের মো. খোরশেদ আলমের স্ত্রী। একই ওয়ার্ডের অপর প্রার্থী পারভীন আক্তার অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি প্রথম মুরাদপুরের মো. আমজাদ হোসেনের স্ত্রী। সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসনা বেগম অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের মহিউদ্দিন মিয়ার স্ত্রী। সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোসাম্মৎ পারভীন আক্তার স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি উত্তর রসুলপুরের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী খোদেজা বেগম অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি মনিপুরের নুরুল ইসলামের স্ত্রী। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী ফারহানা পারভীন অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি লক্ষ্মীপুরের মো. মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জোলেখা বেগম অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি বাউবন্দের আবদুর রশিদের স্ত্রী। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী রুবী আক্তারও অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি কালিকিংকরপুরের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। সাধারণ ২৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ১৪০ প্রার্থীর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি ভাটপাড়ার হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ২ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল মুন্নাফ, মাসুদুর রহমান ও মোশাররফ হোসেন অষ্টম শ্রেণি পাস। মুন্নাফ মফিজাবাদ কলোনির তাহাজ্জদ আলীর ছেলে। মাসুদুর রহমান ছোটরা পশ্চিমপাড়ার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে। মোশাররফ হোসেন ছোটরার মোতাহার হোসেনের ছেলে। এ ছাড়া একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নাহিদা আক্তার ও মো. বিল্লাল মিয়া স্বশিক্ষিত। নাহিদা ছোটরা পূর্বপাড়ার বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। মো. বিল্লাল মিয়া ছোটরা পূর্বপাড়ার বসু মিয়ার ছেলে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী এনামুল হক ভূঁইয়া ও মো. মীর হোসেন স্বশিক্ষিত। এনামুল হক কালিয়াজুরির মুনাজাত উদ্দিনের ছেলে। মো. মীর হোসেন একই এলাকার আনু মিয়ার ছেলে। একই ওয়ার্ডের অষ্টম শ্রেণি পাস কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শাহজাহান ও মো. স্বপন আলী। শাহজাহান শাসনগাছার খোরশেদ আলমের ছেলে ও মো. স্বপন আলী কালিয়াজুরির এরশাদ উল্লাহর ছেলে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী নাছির উদ্দিন স্বশিক্ষিত। তিনি কাপ্তানবাজারের বজলু মিয়ার ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. মোসলেম মিয়া অষ্টম শ্রেণি পাস।

 তিনি কাপ্তানবাজারের রেয়াছত আলীর ছেলে। ৭ নম্বর  ওয়ার্ডের প্রার্থী  সৈয়দ আবীর হোসেন ও মো. শাহ আলম খান স্বশিক্ষিত। সৈয়দ আবীর হোসেন রাজগঞ্জের সৈয়দ আবদুল হামিদের ছেলে। আর মো. শাহ আলম খান অশোকতলার খান সাহেব আবদুল আজীজ খানের ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী শামসুর রহমান অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি নজরুল এভিনিউর ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সফিউল আজম রতন স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি উত্তর চর্থার নুরুল আজিমের ছেলে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. কাউছার মাহমুদ অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি দক্ষিণ চর্থার কদর আলীর ছেলে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান স্বশিক্ষিত। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের আমীর আলী খানের ছেলে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মিজানুল হক অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি বজ পুরের মনিরুল হকের ছেলে। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম রাব্বানী ফটিক স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি সংরাইশের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বশিক্ষিত। তিনি সংরাইশের রফিক মিয়ার ছেলে। এ ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থী মো. আমীর হোসেন স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি নলুয়াপাড়ার মো. আবু মিয়ার ছেলে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের নূর মিয়ার ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. সোহেল স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি পাথুরিয়াপাড়ার মো. শাহজাহানের ছেলে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আফসান মিয়া অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি নূরপুরের আবদুর রশিদের ছেলে। একই ওয়ার্ডের রাজু আহমেদ স্বশিক্ষিত। তিনি দ্বিতীয় মুরাদপুরের জামাল মিয়ার ছেলে। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আক্তার হোসেন অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি মধ্যম আশ্রাফপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম জিলানী স্বশিক্ষিত। তিনি শাকতলার আবদুল জব্বারের ছেলে। এ ছাড়া এই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. মহসীন আহম্মেদ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন, তিনি আশ্রাফপুরে ইয়াসিন আহমেদের ছেলে। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিজয় রতন দেবনাথ অষ্টম শ্রেণি পাস।

 তিনি দৈয়ারা গ্রামের হরিদাস দেবনাথের ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. হানিফ মিয়া স্বশিক্ষিত। তিনি শ্রীভল্লবপুরের হাবিবুর রহমনের ছেলে। এ ছাড়া অন্য কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি দৈয়ারা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলমগীর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি চাঙ্গিনীর সুলতান আহমেদে ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. জয়নাল হোসেন স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি জয়পুরের হাবিব উল্লাহর ছেলে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইদ্রিস মিয়া অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি সালমানপুরের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। একই ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাগমারার মো. ফজল খান অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি ওই গ্রামের মো. রোস্তম খানের ছেলে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. কফিল উদ্দিন মজুমদার স্বশিক্ষিত। তিনি গোয়ালমথনের রফিকুল ইসলাম মজুমদারের ছেলে। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী আবদুস ছাত্তার অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি গোয়ালমথনের মন্টু মিয়ার ছেলে। অপর কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনও অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি গোয়ালমথনের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণি পাস। তিনি রায়পুর গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিক্ষিত মানুষ নির্বাচনে এলে ভালো হতো। কারণ অশিক্ষিত জনপ্রতিনিধি নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জানেন না। নিজে না জানলে তারা তা কীভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবেন?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow