Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৮
তদারকি নেই মাঠ পর্যায়ে সব চলে ইচ্ছামতো
খুলনার প্রাথমিক শিক্ষার হালচাল ১
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

তদারকি নেই মাঠ পর্যায়ে

সব চলে ইচ্ছামতো

ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা সাড়ে ৩টা। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খলিসাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তখন ফাঁকা হয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লাসে হাজির হলেন এক শিক্ষিকা। বোর্ডের এক কোনায় বিষয় ইংরেজি লেখা ও সামনের টেবিলে বিজ্ঞান বই খোলা থাকলেও তিনি নিচ্ছিলেন ধর্মের ক্লাস! পাশের কক্ষে তখন মোবাইল হাতে ব্যস্ত আরেক শিক্ষিকা। বিকাল ৪টার সময়ও হাজিরা নেওয়া হয়নি শিক্ষার্থীদের। আগেই বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক অমর চন্দ্র তরফদার। তবে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসেন তিনি। বললেন, সকাল থেকে ছেলে-মেয়েরা আসা-যাওয়া করছে, এ কারণে হাজিরা তোলা হয়নি। তবে এটি ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। পাশের খলিসাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সাত-আটজন শিক্ষার্থী মাঠে খেলছে। শিক্ষকরা ব্যস্ত নিজেদের কাজে। হাজিরা খাতায় ৭২ জনের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হলেও সারা স্কুলে ১৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলিমা মণ্ডল জানালেন, টিফিনের পর ছুটি নিয়ে সবাই বাড়ি চলে গেছে। জানা গেছে, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে খুলনা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে এভাবে গতিহীন হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত তিন শতাধিক পদ ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত ও চলতি দায়িত্ব নির্ভর হয়ে পড়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষার অভাব ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় প্রায় দুই শতাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বেশ কয়েকটি পদও শূন্য। খুলনা মহানগর পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎসাহী মো. আরজুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। খাতা-কলমে স্কুল পরিদর্শন দেখানো হলেও অনেক কর্মকর্তাই সরেজমিনে স্কুলগুলোতে যায় না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন জাহান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে অনেক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই। সিনিয়র শিক্ষকরা পদোন্নতি পেলে এই সংকট দূর হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তার শূন্য পদগুলোও পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে বলা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow