Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৩
পুলিশ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ দমনে যৌথ ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জঙ্গিবাদ দমনে একযোগে কাজ করবে ১৪ দেশ। তিন দিনব্যাপী চিফস্ অব পুলিশ কনফারেন্সের শেষ দিনে গতকাল এ নিয়েই যৌথ ঘোষণা এসেছে।

১৪টি দেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা জঙ্গিবাদ দমন ছাড়াও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে কৌশল উদ্ভাবন, প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন, মানি লন্ডারিং-সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ এবং অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ১৭টি বিষয়ে একত্রে কাজ করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে ফেসবুকের আইডি খুলতে ভোটার আইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্ট ব্যবহারের     জন্য পুলিশ যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা নাকচ করে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় প্রথমবারের মতো এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষে দেশগুলো যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পুলিশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সহিংসতা ও সীমান্তে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের প্রেক্ষাপটে সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের শেষ দিনে বিভিন্ন দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা বাংলাদেশের এ ধরনের একটি আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে একমত হন। সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা বিশ্বে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান প্রত্যক্ষ করছি। বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট কিংবা আন্তর্জাতিক অন্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই। ’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জঙ্গিরা হোম গ্রোন এবং বিদেশি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের একটা চেষ্টা থাকতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশ মনে করে আন্তদেশীয় সহযোগিতা থাকা দরকার। বাংলাদেশ সরকার জঙ্গিবাদ দমনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়। সম্মেলনের প্রথম দিন রবিবার সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের পরিচালক রোহান গুণারত্নে বলেছিলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা করেছিল আইএস। তবে তার বক্তব্যের পর আইজিপি শহীদুল হক দ্বিমত পোষণ করেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানের একটি কনফারেন্স আয়োজন করার সামর্থ্য রাখে তা প্রমাণিত হয়েছে। চীনের সঙ্গে যৌথ ট্রেনিং ও যন্ত্রপাতি বিনিময়ের ব্যাপারে কথা হয়েছে। চীন পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘদিন একটি শীতল সম্পর্ক ছিল। মিয়ানমার এর আগে কখনো আমাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। এবারই প্রথম তারা সাড়া দিয়েছে। মাদক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ দেখিয়েছে। মিয়ানমার পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদক প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইন্টারপোলের সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশে তাদের দক্ষিণ এশীয় অফিস স্থাপনের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন। এসব দেশের পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরবর্তী সম্মেলনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও চীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইজিপি বলেন, ইন্টারপোলের সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা হয়েছে। তিনি খুনিদের ব্যাপারে তথ্য চেয়েছেন। কোন কোন দেশে সাজাপ্রাপ্ত খুনিরা অবস্থান করছেন তার তালিকা প্রদান করা হবে। সে তালিকা অনুযায়ী ইন্টারপোল কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কথা বলবেন। ইন্টারপোলের সহযোগিতা পেলে দ্রুতই তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হচ্ছে এসব বিষয় তাদের বলেছি। এগুলো কীভাবে বন্ধ করা যায় সে ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে অপরাধ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আমরা চেয়েছিলাম ফেসবুক খুলতে ভোটার আইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্টসহ কোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে একটি চুক্তিও করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের নীতিমালা কোনো চুক্তি করার অনুমতি দেয় না। তাই কোনো ধরনের চুক্তি করা হয়নি। তবে তারা বলেছেন, পুলিশ অপরাধ দমনে সহযোগিতা চাইলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে। তাদের নীতির মধ্যে থেকে তারা পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। ফেসবুক বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীতে একজন ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। ওই ফোকাল পয়েন্ট ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। ’ সম্মেলনে ইন্টারপোলের সেক্রেটারি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া ফেসবুক ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই), যুক্তরাষ্ট্রের আইজিসিআই, আসিয়ানপোলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৫৮ জন বিদেশি অংশগ্রহণ করেন।

up-arrow