Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:২৫
দিনাজপুরে পীর ও মুরিদ খুন
আরেক ‘পীর’সহ তিনজন আটক
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও তার নারী মুরিদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গতকাল গভীররাতে আরেক পীরসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রাম থেকে ইসাহাক আলী নামে আরেক কথিত পীরকে আটক করা হয়েছে।

  ইসাহাক ওই গ্রামের ‘পীর’ আজিম উদ্দিনের ছেলে। বোচাগঞ্জ থানার ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদের মধ্যে ইসাহাক আলী নামে আরেক কথিত পীরকে কুড়িগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দরবার শরিফ থেকে খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ সমরকে আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী এবং তার পালিত মেয়ে ও মুরিদ রুপালী বেগমকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পৈতৃক বাসস্থানে ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদী দরবার শরিফ নামে তিনি খানকা শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন। ফরহাদ হোসেন চৌধুরী নিজেকে সেই দৌলা খানকার পীর বলে দাবি করতেন। দরবার শরিফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা করতেন, যারা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকতেন। নিহত ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি।

তিনি বিএনপি থেকে দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন। তিনি দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকায় তিনি বসবাস করতেন।   পুলিশ তিনদিনেও হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। তারা ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। সোমবার রাত থেকে তালা ঝুলিয়ে পুরো দরবার শরিফটিও পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।  

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর বড়মাঠে নিহত ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর জানাজা শেষে তার লাশ দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে দরবার শরিফের কাছেই তাকে দাফন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow