Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৭
পাট পণ্যের চাহিদা মালয়েশিয়ায়
মাহাথিরের দেশে ২
মাহমুদ আজহার মালয়েশিয়া থেকে ফিরে
পাট পণ্যের চাহিদা মালয়েশিয়ায়

ইউনিভার্সিটি কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ায় (ইউকেএম) ২০ বছর ধরে পাট ও পাটজাত পণ্য নিয়ে গবেষণা করছেন দুই শতাধিক চীনা ও মালয়েশীয় ছাত্র। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতেও চলছে পাটজাত পণ্য নিয়ে গবেষণা।

দেশটির বিভিন্ন ল্যাবেও চলছে এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত পণ্য। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৩০০ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যও রয়েছে।

জানা যায়, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ। সে ক্ষেত্রে পাটের ব্যাগের চাহিদাও প্রচুর। বিভিন্ন শপিং মলে দেখা গেছে পাটপণ্য। বাংলাদেশি পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজছেন সেখানে গবেষণায় থাকা চীনা ও মালয়েশীয় গবেষকরা। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি দুই তরুণ ওমর ফারুক ও মেহেদী হাসান বাংলাদেশি পাটের গুণাগুণ সম্পর্কে গবেষকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরছেন কয়েক বছর ধরে। পাট রপ্তানি করতে তারা বাংলাদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। জানা যায়, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) বাংলাদেশের পাটপণ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেশি-বিদেশি যে কোনো ক্রেতা পাটপণ্য কিনতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশের পাটের নানা গুণাগুণও তুলে ধরা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশি পাটপণ্যই সারা বিশ্বে রপ্তানি হবে বলেও আশা করছে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রসঙ্গে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম গতকাল রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পাট সরাসরি মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে না। তবে পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩৫টি পাটপণ্য তৈরি হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য একটি অংশ রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। এর সংখ্যা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’ কুয়ালালামপুরের দামানছারায় ‘রিলটেক’ নামে এক ল্যাবে গবেষণা করছেন ভিনসেন্ট ল’সহ কয়েকজন চীনা তরুণ। গবেষণা কেন্দ্রে কথা হয় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে। তরুণ গবেষকরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, কেনাফ ফাইবার যে নেগেটিভায়ন ধারণ করতে পারে, তা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। পাটের বীজ থেকেও যে ‘জুট মিল্ক’ তৈরি হয়, তাতে ‘ওমেগা সিক্স’ পাওয়া যায়, যা চোখের জ্যোতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ অচল সব কোষকে সচলে ব্যাপক সহায়তা করে। গবেষকরা জানান, মালয়েশিয়ার সরকারি মেডিকেল ল্যাবের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জুট মিল্ক, ওমেগা সিক্স। এর পরই তারা পাটপণ্য বাজারজাত শুরু করবেন।

জ্যাক সো নামে এক চীনা তরুণ ব্যবসায়ীও বাংলাদেশি পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সো বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, গবেষণায় বাংলাদেশি পাটের কার্যকারিতা ও গুণাগুণ দেখতে পেয়েছেন তিনি। মালয়েশিয়ায় তার পাটপণ্যের কারখানা রয়েছে। তার কারখানার জন্য বিপুল পরিমাণ পাট ও পাটজাত পণ্য জরুরি। এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশি পাট খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

 

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শপিং মলে ঘুরে দেখা গেছে, মেডিকেল বেড, পার্সেল বক্স, মেটরেক্স, টাইলস, টিস্যু পেপার, পাটের ব্যাগ, সুতা, হার্ডবোর্ড, খেলনা, পোশাক, শাড়ি, জুতা, ব্যাগ, টেবিল ম্যাট, পাটের তৈরি কাগজ, পাটের ভিজিটিং কার্ড, র‌্যাপিং শিট, দাওয়াতপত্র, অফিস আইটেম, ফাইল ফোল্ডার, ব্যাগ, কার্ড হোল্ডার, পেপার  ফোল্ডার, ফাইলবক্স, ডেক্স ক্যালেন্ডার, স্কুলব্যাগ, ল্যাপটপ ব্যাগ, লেডিস পার্চ, শপিং ব্যাগ, মোবাইল-পাসপোর্ট ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, গ্রোসারি ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, স্যুটকেস, ব্রিফকেস, মানিব্যাগসহ নোটবুক, ফটো অ্যালবাম, ল্যাম্প শেড, পুতুল, দৃষ্টিনন্দন শোপিসসহ শতাধিক সামগ্রী। তবে জুট মিল্ক এখনো বাজারজাত হয়নি। এটা মালয়েশীয় সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শপিং মলে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে কদরও পাচ্ছে পাটপণ্য। তবে পাটপণ্যের পরিমাণ খুবই কম। এ ক্ষেত্রে পাটপণ্য বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের। মালয়েশিয়া প্রবাসী হাসান আল মামুন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় কুয়ালালামপুরের একটি শপিং মলে। তিনি বলেন, ‘পাটপণ্যের মান খুবই ভালো। মালয়েশিয়ার পাটপণ্য কোথা থেকে আসছে জানি না। তবে খুব খুশি হব যদি মালয়েশিয়ান শপিং মলগুলোতে বাংলাদেশি পাটের তৈরি সামগ্রী বিক্রি হয়। আশা করছি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা মালয়েশিয়ায় পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করবেন। ’

মালয়েশিয়ান দুই তরুণ উদ্যোক্তা ওমর ফারুক ও মেহেদী হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় পাট রপ্তানির যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত। আমাদের গোল্ডেন ফাইবারকে বিশ্বের বুকে পরিচিত করতে চাই। দেশের পণ্যকে অন্য একটি দেশে তুলে ধরার মধ্যেও অন্য রকম আনন্দ রয়েছে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ’

up-arrow