Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৮
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্যোগী চীন
আসছেন বিশেষ দূত
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

দীর্ঘ সময় ধরে চুপচাপ থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছে চীন। এ ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার জন্য আগামী সোমবার ঢাকা আসছেন এশিয়াবিষয়ক চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং।

তার সফরের আগে আগে চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং কক্সবাজার সফর করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন চীনের বিশেষ দূত। জানা যায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন, হত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে রাখাইন প্রদেশের নাগরিকরা রয়েছেন বিপাকে। এ নিয়ে এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগও মিয়ানমার সরকার আমলে নেয়নি। এমনকি শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিকেও এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি সামালে ভূমিকা রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। আর এরই অংশ হিসেবে চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং বাংলাদেশে আসছেন। সোমবার ঢাকা পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বুধবার ঢাকা ছাড়বেন চীনের দূত। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর খবর, বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সু চিকে আরও সময় দিতে চায়।

এ ছাড়া তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও রয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চললেও পশ্চিমা বিশ্ব প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজার গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাকার্তা সফরকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংকট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো ত্রাণ সহায়তা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মধ্যে বিতরণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের চরাঞ্চলে স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনার কথা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটিতে উত্থাপন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

up-arrow