Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৮
‘বন্দুকযুদ্ধে’ হরকাতুল কমান্ডার নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর (৪৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত তাজুল ইসলাম জঙ্গি।

তিনি নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদের আঞ্চলিক কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে  ৫টি মামলা রয়েছে। বুধবার রাত ২টার দিকে উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কসবা থানা পুলিশের ৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, বুধবার রাতে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫-৬ জন জঙ্গি কুটি চৌমুহনী এলাকায় জড়ো হয়ে মিটিং করছে— এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে জঙ্গিরা পুলিশের ওপর ককটেল হামলা এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। জঙ্গিরাও আনুমানিক ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গি মামা হুজুরের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে অন্য জঙ্গিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, মামা হুজুর একজন জঙ্গি। তিনি নিজ দলের সদস্যদের গুলিতেই নিহত হয়েছেন। তাজুল ইসলামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার খাদুল্লাহপুর গ্রামে। তিনি কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কবিরাজ ফরিদ মিয়া হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় কসবা থানা পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। এরা হলো পুলিশের এসআই বেলাল আহমেদ, এসআই নুরুল হক ও এএসআই মো. মহিউদ্দিন, কনস্টেবল নাজিব ও কনস্টেবল ইব্রাহিম। তাদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, নিহত তাজুল ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের আঞ্চলিক কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে জেলা সদর, আশুগঞ্জ ও নবীনগর থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি ককটেল, ৫টি ধারালো চাপাতি ও একটি পাইপগান এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কবিরাজ ফরিদ মিয়ার (৪৭) গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জহির মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, ধর্ষণ, প্রতারণা ঠেকিয়ে বেহেশতে যেতে কথিত মামা হুজুরের (নিহত ব্যক্তি) নির্দেশে ফরিদ মিয়াকে হত্যা করেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow