Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৯
১৩ পণ্যের স্বত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ
জামদানি-ইলিশের পর নিবন্ধনের তালিকায় কাটারিভোগ চাল সোনালি মুরগি ফজলি আম হাঁড়িভাঙা মিষ্টি
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
১৩ পণ্যের স্বত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ

আরও ১৩টি পণ্যের স্বত্ব (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই) পাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে পণ্যগুলোর প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে।

যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাভুক্ত পণ্যগুলো বাংলাদেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সমন্বিত বিশেষ পণ্য হিসেবে প্রমাণিত হলে জিআই স্বীকৃতি পাবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। জিআই নিবন্ধনের জন্য তালিকাভুক্ত পণ্যগুলো হচ্ছে : কাটারিভোগ চাল, কালিজিরা চাল, সাদা মাটি, সোনালি মুরগি, লতিরাজ কচু, হাঁড়িভাঙা মিষ্টি, মহিষের দুধের দই, মালটা, ফজলি আম, খিরসা আম, হাঁড়িভাঙা আম, আশ্বিনা জাতের আম ও ল্যাংড়া আম। এর আগে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রুপালি ইলিশের স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়াও শেষের পথে। কেবল গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। ময়মনসিংহের কালিজিরা চাল, নেত্রকোনার সাদা মাটি (হোয়াইট ক্লে), জয়পুরহাটের সোনালি মুরগি, হাঁড়িভাঙা মিষ্টি ও লতিরাজ কচু; রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, নোয়াখালীর মহিষের দুধের দই এবং পিরোজপুরের মালটার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, আর খিরসা জাতের আম, ফজলি আম, ল্যাংড়া আম, আশ্বিনা জাতের আম ও কাটারিভোগ চালের জন্য বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারি) বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেতে আবেদন করেছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশন (আইপিও) থেকে বাংলাদেশের পণ্যের জিআই নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সংস্থা প্যাটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদফতরকে (ডিপিডিটি)। এই অধিদফতর জিআই নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়ার পরই দেশের প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে নিজ নিজ জেলার উৎপাদিত বিশেষ পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানায়। এই চিঠির পর এ পর্যন্ত ১৩টি পণ্যের জন্য আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিপিডিটির রেজিস্ট্রার মো. সানোয়ার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তালিকা রয়েছে তার সবই হয়তো নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ করতে পারবে না। তবে আমরা এর মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক স্বত্ব পাওয়ার যে প্রক্রিয়া তা শুরু করেছি। ’ জানা গেছে, পাশের ভারত এ পর্যন্ত ৬৬টি পণ্যের প্যাটেন্ট করে নিয়েছে। এর মধ্যে জামদানি, ইলিশ, নকশিকাঁথা ও ফজলি আম রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী জামদানিকে অন্ধ্রপ্রদেশের ‘উপাধ্যায় জামদানি’ হিসেবে, ইলিশকে গঙ্গার ইলিশ হিসেবে, নকশিকাঁথাকে পশ্চিম বাংলার পণ্য হিসেবে এবং ফজলি আমকে পশ্চিম বাংলার মালদহ জেলার অধীনে প্যাটেন্ট করিয়েছে দেশটি। এ ছাড়া ভারত আরও ১৫৮টি পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে প্যাটেন্ট করানোর জন্য। সে তুলনায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত জামদানির জিআই নিবন্ধন করেছে। আর ইলিশেরটি প্রক্রিয়াধীন। ডিপিডিটির কর্মকর্তারা জানান, জিআই নিবন্ধনের আগে ঐতিহ্যগতভাবেই জামদানি যে শুধু বাংলাদেশেরই নিজস্ব পণ্য এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ফল তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে ইলিশেরও। ইলিশ ভারত ও মিয়ানমারেও রয়েছে। তবে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের জিআই-স্বত্ব শুধুই বাংলাদেশের। ভারত যে ইলিশের জিআই-স্বত্ব নিয়েছে তা ভারতের সীমানার ভিতরে গঙ্গার ইলিশের। জামদানি বা ইলিশের মতো বিশেষ বিশেষ পণ্যের জিআই-স্বত্ব বা নিবন্ধন নেওয়ায় দেশের কী লাভ— জানতে চাইলে ডিপিডিটির কর্মকর্তারা জানান, জামদানির জিআই নিবন্ধন দেওয়ার ফলে এ পণ্যটি যে বাংলাদেশের সেই স্বত্ব নিশ্চিত হয়েছে। এখন ধরা যাক, চীনে জামদানি রপ্তানি করতে গেলে সেই দেশেও এটিকে বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করাতে হবে। তখন অন্য কেউ দেশটিতে জামদানি নামে কোনো শাড়ি রপ্তানির সুযোগ পাবে না। কেউ জামদানির কারিগরি চুরি করে নিজের দেশে বানালে সেই পণ্য ‘জামদানি’ নামে বিক্রি করতে পারবে না। এর ফলে বাংলাদেশ জামদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা পেল। এ ছাড়া জিআই নিবন্ধনপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও তুলনামূলক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বেশি পাওয়া যায়। ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দিক থেকে পণ্যের মেধাস্বত্ব ও জিআই নিবন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow