Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:২১
মহানগরের রাজনীতি
দাবি আদায়ে শক্তিশালী আন্দোলন হবে : সোহেল
মাহমুদ আজহার
দাবি আদায়ে শক্তিশালী আন্দোলন হবে : সোহেল

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেন সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, ‘আমার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলকে সুসংগঠিত করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা। দলে ছোটখাটো বিভেদ থাকলে সেগুলো মিটিয়ে ফেলা। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত গণতন্ত্রকে জীবিত করব। ’ গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলার খড়্গ ঝুলছে। বেঁধে দেওয়া এক মাস সময়সীমার মধ্যেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টার কথাও জানান সোহেল। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা রয়েছে। মহানগরের প্রতিটি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। প্রতিটি নেতা-কর্মীকেই আমি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বলেছি। হয়তো আবারও কারা নির্যাতনের শিকার হতে পারি আমি। সে ক্ষেত্রে যাতে দলের কোনো সমস্যা না হয়, সেভাবেই দলকে তৈরি করে নেব। কোনো নেতা গ্রেফতার হলে যাতে পরবর্তী কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে ধরনের নেতৃত্ব তৈরি করব। ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সভাপতি বলেন, ‘এখনো ঢাকা মহানগরে বিএনপির যত নেতা-কর্মী রয়েছে, অন্য কোনো দলের তা নেই। আমাদের দল এখনো ঢাকা মহানগরে শক্তিশালী। হয়তো প্রশাসনের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমি কখনই মনে করি না, ঢাকা মহানগরে বিএনপি দুর্বল। তবে আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আরও উজ্জীবিত করে তুলতে হবে। সংগঠনে গতি আনতে হবে। শক্তিশালী ঢাকা মহানগরের মাধ্যমেই শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে উঠবে। বিএনপি বিগত সময়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে এটাও ঠিক নয়। বিএনপি আন্দোলনে সফল হয়েছে বলেই সরকারকে জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের ইমেজ সংকট আগামী দীর্ঘদিনের জন্য তাদের বহন করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল। জনগণের শক্তির ওপরই সব সময় বিশ্বাস করে বিএনপি। আমরা জনগণের সেন্টিমেন্ট ও ভোটাধিকারকে প্রাধান্য দিয়েই আন্দোলনের পথে রয়েছি। ক্ষমতা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। যখন একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন হবে, জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ইনশা আল্লাহ। বিএনপি অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তাও করে না। ’

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি যদি মেনে নেওয়া হয়, তা ভালো কথা। তাহলে আমরা সাংগঠনিক কাজেই নিয়োজিত থাকব। আর যদি সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে গড়িমসি করে, পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করে, তাহলে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেব। আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করব। ’

এক প্রশ্নে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা মহানগর বিএনপিতে কোনো বলয় নেই। পুরো ঢাকা মহানগরই এখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলছে। এখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা আমাদের কাছে কিংবদন্তিতুল্য। তাদের সহযোগিতা নিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আমরা দল তৈরি করব। জিয়া পরিবারের বাইরে কোনো বলয় নেই। আমরা সবাই তাদের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। এখানে ভিন্ন কিছু করার কোনো সুযোগ নেই। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow