Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৭ ২৩:০৪
জামালপুরে হেভিওয়েটদের ছড়াছড়ি
শফিক জামান, জামালপুর
জামালপুরে হেভিওয়েটদের ছড়াছড়ি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে জামালপুরের রাজনীতিও এখন সরগরম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃণমূলে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

জামালপুরের পাঁচটি আসনে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চালাচ্ছেন গণসংযোগ। সমানতালে চলছে দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতাদের কাছে লবিং। এলাকায় পোস্টার, ব্যানার আর গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা। জামালপুরে পাঁচটি সংসদীয় (১৩৮, ১৩৯, ১৪০, ১৪১ ও ১৪২) আসনেই কার্যত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে। দুই দলেই একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন জামালপুরে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা ছাড়াও রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জেনারেল খালেদ মোশাররফের কন্যা মেহজাবিন খালেদ বেবী। বিএনপিতেও রয়েছেন একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) : আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ। নূর মোহাম্মদ এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়াও তিনি তার উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে নিজের টাকায় টিউবওয়েল দিয়ে এবং গাছ লাগিয়ে এলাকার  প্রশংসা অর্জন করেছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন ব্যারিস্টার সামির সাত্তার। এ আসনে বিএনপির তিনজনই শক্তিশালী প্রার্থী। তারা হলেন— সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাহিদা আক্তার রীতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম। এর মধ্যে সাহিদা আক্তার রীতা ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ৭৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েও পরাজিত হন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় কাজ করছেন। বর্তমান এমপি আবুল কালাম আগের অবস্থানে নেই। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) : এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল ছাড়াও শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি মেহজাবিন খালেদ বেবি। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জেনারেল খালেদ মোশাররফের কন্যা মেহজাবিন খালেদ বেবী দীর্ঘদিন থেকেই ইসলামপুরের তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ করছেন। নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। মেহজাবিন খালেদ বেবীর চাচা মরহুম রাশেদ মোশাররফ এ আসনে দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন। সব মিলিয়ে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে এবার তিনি দলের মনোনয়ন পেতে সব ধরনের চেষ্টাই করছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু ছাড়াও শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম আবদুল হালিম। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবেন জাহাঙ্গীর আলম দিপু।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি। একাধারে পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি মির্জা আজমের প্রতি শুধু দলীয় নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা রয়েছে। তিনি শুধু মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ নয়, পুরো জেলাকে পাল্টে দিয়েছেন উন্নয়নের ধারায়। এক সময়ের পশ্চাৎপদ জনপদ মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। শিক্ষা, রাস্তাঘাট, চিকিৎসাসহ সব কিছু তার উন্নয়নের ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত। এ আসনে মির্জা আজমের বিপরীতে বিএনপির একক প্রার্থী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে এবার শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ। অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ সরিষাবাড়ীর প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন। তবে অধ্যক্ষ রশিদ ছাড়াও সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা দলের মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা করছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে একক প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার। মামুন জোয়ার্দার গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোট পলিসির কারণে অনেকটা ফাঁকতালে এমপি হয়ে যান। তবে এবার তাকে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই ছাড় দেবে না বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টিসহ জোটের শরিক দলগুলোর রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি এমপি হলেও গত পাঁচ বছরে এলাকার তেমন দৃশ্যমান উন্নয়নে কোনো কাজ করেননি। বরং তার বিরুদ্ধে শরিক দলগুলোর অভিযোগ, তিনি ব্যস্ত ছিলেন লুটপাটে। এ আসনে জাসদ (আম্বিয়া) থেকে প্রার্থী হবেন জাসদ নেতা এম এল ফারুক। জামালপুর-৫ (সদর) : এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচিত বর্তমান এমপি সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা। এ ছাড়াও এবার শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ। নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে তার নেতৃত্বে এখন পুরো জেলার আওয়ামী পরিবার সংগঠিত। পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নেতৃত্বে জেলায় উন্নয়নের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে সেই উন্নয়ন তৎপরতাকে তিনি সামনের কাতারে থেকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়ে পুরো সদর আসনে পোস্টার ও ব্যানার পড়েছে। প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চৌধুরীও নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি প্রকৌশলী মোজাফফর হোসেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আক্তার পপি, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক তরুণ ব্যবসায়ী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজনু, সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আবদুল মান্নান, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ইকবাল জাফু। স্থানীয় নেতৃত্বের বাইরে কেউ এলে মারুফা আক্তার পপির সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনে বিএনপি থেকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন। জামালপুর সদর আসনে তৃণমূল পর্যন্ত তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এ ছাড়াও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তা রয়েছে সাবেক মহিলা এমপি নিলোফার চৌধুরী মনিরও। তিনিও আগামীতে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে প্রার্থী হবেন জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন।

আগামীকাল : শেরপুরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

এই পাতার আরো খবর
up-arrow