Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৮
গাজীপুর সিটিতে আগাম প্রচারণা
মনোনয়নে আওয়ামী লীগে দুজনই আশাবাদী, বিএনপির এবারও মেয়র মান্নান
শফিকুল ইসলাম সোহাগ ও শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্, গাজীপুর থেকে
গাজীপুর সিটিতে আগাম প্রচারণা

ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুর মহানগরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী একরকম নিশ্চিত থাকলেও সমস্যায় পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সম্ভাবনাময় একাধিক প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীক কে পাবেন তা নিয়ে সিটি এলাকা জুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এ বছরের ডিসেম্বরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা আছে নির্বাচন কমিশনের। ফলে নড়াচড়া শুরু করে দিয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীগণ। তাতেই নির্বাচনী হাওয়ায় ভাসছে গাজীপুরবাসী। চায়ের আড্ডা থেকে মাঠ-ময়দান সর্বত্র কেবল নির্বাচনী গাল-গল্প।   কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে হচ্ছে মুখরোচক আলোচনা। সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন প্রচার-প্রচারণা। সিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এরই মধ্যে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা। একেকজন কাউন্সিলর প্রার্থী পছন্দের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। চলছে জেলা ও মহানগর কমিটির সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা। গাজীপুরে বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান আছে। তবে গত নির্বাচনে এখানে মেয়র পেয়েছে বিএনপি। জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবারও বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের পছন্দ। তার মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকারও দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। জানতে চাইলে গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আবারও জয়ী হব। বিএনপির আরেক সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজনীতি করি জনগণের সেবা করতে। আর এই সেবার জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে কাজ করে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে জয় আমাদের নিশ্চিত। অন্যদিকে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন  পেতে আগ্রহী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক  কামরুল আহসান সরকার রাসেল। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনকারী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুর রহমান কিরণও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় সূত্র মতে, গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম দুজনই আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় মেয়র প্রার্থী। এদের একজন দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে কে পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আজমত উল্লাহ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এত বড় সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মেয়রের প্রয়োজন। এসব চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কথায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি। এবার দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আরেক মেয়র প্রার্থী গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান সরকার রাসেল বলেন, দলীয় মেয়র প্রার্থী নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগে দলাদলি দেখা দিয়েছে। আর এই দলাদলি ভেঙে আমি নৌকার প্রার্থী হতে চাই। নগরবাসী চাচ্ছেনও আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে যেন কোনো দলাদলি না হয়। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনকারী আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, বহুদিন ধরে জনগণের সেবা করে আসছি। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছি। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাই। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।   আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ও দলাদলি নিয়ে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ খুবই সুসংগঠিত। তাই সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হতেই পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে জয়ী করতে আমরা প্রস্তুত। গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, বিগত সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জয়ী হওয়ায় এবারও আমাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো আমরা দলের সিদ্ধান্ত পাইনি কে প্রার্থী হচ্ছেন। গাজীপুরের সাধারণ মানুষ বিগত সময়ে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সীমা থাকে না। টঙ্গী এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক আশায় ছিলাম সিটি মেয়র এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করবেন। কিন্তু আমাদের সব আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। মেয়র থেকেও নেই। গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা তানজেরুল ইসলাম বলেন, ময়লা-আবর্জনায় একাকার গাজীপুর সিটি। পাড়া-মহল্লায় হাঁটতে গেলে নাকে রুমাল দিতে হয়। কোনো শৃঙ্খলা নেই। গাজীপুর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরই নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে তত্পরতা শুরু করে দিয়েছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, গাজীপুর দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন। এই বৃহত্তর সিটি পরিচালনা করতে অভিজ্ঞ মেয়রের প্রয়োজন। তাই আমরা চাই সব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ একজন নেতা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হোক। ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ছবদের হাসান বলেন, অনেক উন্নয়ন করার আশা থাকলেও মেয়রের জন্য তা করতে পারিনি। একই কথা জানালেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর হয়েছি। এবারও দলের সমর্থন চাই। তবে মেয়র পদে নমিনেশন ভুল হলে নির্বাচনী ফল ঘরে না আসার সম্ভাবনা বেশি। আর এর প্রভাব পড়বে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় এলাকায়।

up-arrow