Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৯
শেরপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ
মাসুদ হাসান বাদল, শেরপুর
শেরপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেরপুরের ৩টি সংসদীয় আসন ১৪১, ১৪২ ও ১৪৩ এলাকায় শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। প্রচারে আওয়ামী লীগ অনেকটা এগিয়ে থাকলেও বসে নেই বিএনপিও। দুই দলে সাংগঠনিক গ্রুপিং কোন্দল কম-বেশি রয়েছে। একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। নির্বাচন ঘিরে রমজানে চলেছে ইফতার রাজনীতি। এখনো চলছে ঈদ পুনর্মিলনী। অনেকেই ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করছেন। শেরপুরে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রতিপক্ষ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদিউজ্জামান বাদশা। অন্য আসনগুলোতেও একই অবস্থা। কার্যত, শেরপুরে মনোনয়নযুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগই। এই সুযোগ নিতে পারে বিএনপি। শেরপুর-১ সদর আসনে ৪ মেয়াদ ধরে এমপি বর্তমান সংসদের হুইপ ও দলের জেলা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার মনোনয়নে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানোয়ার হোসেন ছানু। এ ছাড়াও শেরপুরের মেয়ে গোপালগঞ্জের বধূ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফাতেমাতুজ্জোহরা, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম মঞ্জুও দলের সম্ভাব্য প্রার্থী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৪ দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইলসাম লিটন। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলার সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি হযরত আলী তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মনোনয়ন পেতে সচেষ্ট। এ ছাড়াও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মো. কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল ওয়াফি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। শেরপুর সদরে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হবেন জেলা জাপার সভাপতি ইলিয়াছ উদ্দিন। এই আসনে তিনবারের সাবেক আলোচিত এমপি শাহ রফিকুল বারী চৌধুরীও নির্বাচন করতে পারেন।

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে পরপর তিন মেয়াদে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী নির্বাচিত এমপি। আগামী একাদশ নির্বাচনেও তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদশাও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের লবিং-গ্রুপিং এখন তুঙ্গে।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সাবেক হুইপ মরহুম জাহেদ আলীর ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিম চৌধুরী, নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা মুখলেছুর রহমান রিপন এবং সাবেক ছাত্রনেতা জায়েদুর রশীদ শ্যামল। এই আসনে জাহেদ চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যেতে পারেন ফাহিম চৌধুরী। জাপা থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবদুস সালামের ছেলে শওকত সাঈদ মনোনয়ন চাইবেন। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে দুই মেয়াদে এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের জেলা সদস্য প্রকৌশলী এ কে ফজলুল হক। তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে একঝাঁক নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, সাবেক এমপি খন্দকার মো. খুররম, মুক্তিযোদ্ধা নূরল ইসলাম হিরু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইফতেখার হাসান কাফি জুবেরী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাছরিন ফাতেমা রহমান, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম এ ওয়ারেছ নাঈম, কৃষিবিদ ফররুখ আহাম্মেদ এবং মহসিনুল বারী রুমি। এ ছাড়াও বিএনপি করে ও সর্বশেষ জাপা থেকে যোগদান করা প্রবাসী শিল্পপতি হেদায়েতুল ইসলাম হেদাও আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেটকাই নিশ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বর্তমান সরকারদলীয় এমপি এ কে ফজলুল হকের ভাতিজা। রুবেলের বাবা মরহুম ডা. সেরাজুল ইসলাম এ আসন থেকে দীর্ঘদিন বিএনপির টিকিটে এমপি হয়ে আসছিলেন। তবে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও এ আসনে ভোটে বড় ফ্যাক্টর জামায়াতও। গত উপজেলা নির্বাচনে রুবেলের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের অবনতি হয়। শোনা যাচ্ছে, জামায়াতের উপজেলা পর্যায়ের নেতা নূরুজ্জামান বাদলও প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থীর কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

up-arrow