Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:৩০
খাবার অভাবে দিশাহারা মানুষ
বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা
প্রতিদিন ডেস্ক
বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা
কমছে বন্যার পানি। সেই সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরার বহু এলাকা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিভিন্ন নদ-নদীতে বন্যার পানি বাড়া-কমা হতে থাকায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে বসতি হারিয়ে বহু মানুষ ছুটছে আশ্রয়ের সন্ধানে। গতকাল জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনার প্রবল স্রোতে কালভার্ট দেবে গেছে। অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। এসব স্থানে খাদ্যাভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিরাজগঞ্জের দুই স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধা ও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—শরীয়তপুর : ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে পদ্মাপারের হাজার হাজার মানুষ। ভাঙনের শিকার হয়ে এরই মধ্যে ভিটেবাড়ি, গবাদিপশু, কৃষিজমিসহ সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই আশ্রয়হীন অবস্থায় ঘুরছে। জাজিরা উপজেলার কুণ্ডের চর, নড়িয়া উজেলার সুরেশ্বর, ঈশ্বরকাঠিসহ তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভিটেবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার হাটমাগুরা-কাইজার চর সড়কে নবনির্মিত ৩২ লাখ টাকার একটি বক্স কালভার্টের একাংশ বন্যার তোড়ে দেবে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ‘আইআরআইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন বক্স কালভার্টটি বন্যার স্রোতে দেবে গেছে। পাশের অন্য কালভার্টটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ জামালপুর : জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৩৭ সেন্টিমিটার কমে গতকাল বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।’ তিনি জানান, ‘পানি দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। পানি কমতে থাকায় অনেকেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।’ সিরাজগঞ্জ : চৌহালীর ঘোরজান ইউনিয়নের কাউছার আলীর ছেলে মুস্তাকিম (১১ মাস) ও উল্লাপাড়ার ডেফলবাড়ী গ্রামের মৃত আখের আলীর স্ত্রী অবিরন নেছা (৭০) বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন। উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর দিয়ানাতুল দিনার জানান, ‘রবিবার বিকালে বৃদ্ধা অবিরন নেছা বাড়ির পাশে ফুলজোড় নদে পাট ধুতে যান। সন্ধ্যা হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় দমকল বাহিনীর সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পরও তাকে পাওয়া যায় না। গতকাল ভোরে নদে তার লাশ ভেসে ওঠে।’ অন্যদিকে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী রিনা খাতুন জানান, ‘রবিবার চৌহালীর বালিয়াকান্দি চরে শিশু মুস্তাকিম বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে হামাগুড়ি দিয়ে পড়ে যায়। রাতে তার লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।’ এদিকে যমুনার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বর্তমানে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট : সিলেটের আট উপজেলার বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগের শেষ হচ্ছে না কিছুতেই। উন্নতি হচ্ছে না বন্যা পরিস্থিতির। বরং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে অবনতি ঘটছে বন্যা পরিস্থিতির। সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়ে যাওয়ায় গতকাল পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের হিসাবেই এসব উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সংখ্যা অনেক বেশি। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোয় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া কুশিয়ারার আমলসিদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোয় বৃষ্টি না থামলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। সিলেটে বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow