Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:১৭
মিয়ানমার বাহিনীর তদন্ত
রাখাইনে হত্যা নির্যাতন হয়নি!
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
রাখাইনে হত্যা নির্যাতন হয়নি!

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালানো এবং তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। কথিত প্রতিবেদনে দেশটির সেনাবাহিনী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী গতকাল ফেসবুকে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী হাজারখানেক গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে যারা অত্যাচার-নির্যাতনের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং গ্রামবাসী স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালায়নি। নারীদের ওপর যৌন অত্যাচার বা তাদের ধর্ষণ করেনি। গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের গ্রেফতার, মারধর বা হত্যা করেনি। সাধারণ মানুষের বাড়িঘর থেকে সোনা বা রুপাসহ কোনো মূল্যবান সামগ্রী বা গবাদিপশু লুট করেনি। মসজিদে আগুন দেয়নি। সাধারণ মানুষের বাড়ি পোড়ায়নি। বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘বাঙালি সন্ত্রাসীরা’ এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। এসব সন্ত্রাসীর ভয়ে লাখো মানুষ রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা নেই তা স্পষ্ট হলো এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দূর করার চেষ্টা করছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী সহিংস অভিযানের পর থেকে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনকে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। কিন্তু রাখাইন রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আছে। কিছুদিন আগে মিয়ানমার সরকার তাদের নিমন্ত্রিত সাংবাদিকদের একটি দলকে রাখাইন সফরে নিয়েছিল। ওই সফরে গিয়ে বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি জোনাথন হেড দেখেছেন, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রাম আগুনে পুড়ছে। গ্রামগুলোয় পুলিশের সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়েরর পুরুষদেরও এসব সহিংসতায় জড়াতে দেখেছেন বিবিসির প্রতিনিধি।

up-arrow