Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২০
ত্রিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ বিএনপি, প্রার্থীর ছড়াছড়ি
শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ
ত্রিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ বিএনপি, প্রার্থীর ছড়াছড়ি

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপ সক্রিয়। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দলের জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে খুন হন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও কোলা ইউনিয়ন সভাপতি আনন্দমহন ঘোষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের তিন গ্রুপের মধ্যে এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার এমপি। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী  লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজু।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এখানে তিন গ্রুপ পৃথকভাবে পালন করে। তাদের দ্বন্দ্ব নিরসন করতে ব্যর্থ হয়েছে জেলা কমিটি। বছর দুয়েক আগে এখানে কর্মিসভায় জেলা আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ওই সময় জেলা নেতারা জীবন নিয়ে কোনো রকম পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। এরপর থেকে এই আসনটির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নীরব রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তাছাড়া এই আসনের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ মাদক ব্যবসা, চোরাচালানি নিয়ন্ত্রণ ও বাফার গোডাউনের সার লুটপাট। যিনিই এমপি হন তার হাতে এসব ক্ষমতা চলে যায়। অন্য গ্রুপ এসব সহ্য করতে পারে না। ফলে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। মান্নান গ্রুপের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে এমপি নিয়োগ বাণিজ্য, জিআর, টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তার কারণে আওয়ামী লীগের অনেক নিবেদিত নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা শিকার হতে হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। অন্যদিকে এমপি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা এসব দুর্নীতিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড মানতে নারাজ। সুবিধা না পেয়ে এমপি আনারের বিরুদ্ধে নানা কুত্সা রটানো হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে এই তিন গ্রুপের নেতা ছাড়াও দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠাণ্ডু। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তিনি এবার উঠে পড়ে লেগেছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য। এ ছাড়া বসে নেই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের, শ্রমিক লীগ নেতা আক্কাস আলী ও মামুন আজিজ বাবু। বিএনপিও কোন্দল থেকে মুক্ত নয়। এ দলটিও ত্রিধারায় বিভক্ত। এর মধ্যে সাবেক সংসদ শহীদুজ্জামান বেল্টুর বিপক্ষে এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম। অপরটির নেতৃত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তিনি সাবেক এমপি বেল্টুর বিপরীতে একটি বলয় তৈরি করেছেন। শহীদুজ্জামান বেল্টুর বিরুদ্ধে সাধারণ নেতা-কর্মীদের অভিযোগের শেষ নেই। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীরা তাকে কাছে পায়নি। তিনি অধিকাংশ সময় জেলা শহরের বাড়িতে ও ঢাকায় অবস্থান করে থাকেন। হামিদুল ইসলাম হামিদ সব সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আছেন। জেলার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দুই দলের মধ্যে যে দল কোন্দল নিরসন করবে তারাই নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে থাকবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow