Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২১
ইউরোপ প্রবাসীর নির্দেশে ব্যবসায়ী সিদ্দিক খুন!
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

ইউরোপে বসবাসরত এক ব্যক্তির নির্দেশে খুন হয়েছেন বনানীর এস মুন্সী ওভারসিজের মালিক সিদ্দিক মুন্সী। এই কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন হেলাল উদ্দীন। হত্যাকাণ্ডের সময়ও হেলাল বাইরে দাঁড়িয়ে খুনের ঘটনার মনিটরিং করেন। ছয় সদস্যের দল থাকলেও সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেন চারজন। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে গুলশানের কালাচাঁদপুর থেকে হেলালকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশ ও সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল বিকালে হেলালকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ আসে ইউরোপে থাকা প্রবাসী এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে। ২০১৩-১৫ সালে দেশে জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে দেশে অনেক মামলাও আছে। সে সিদ্দিককে হত্যা করতে তার বন্ধু হেলালকে নির্দেশ দেয়। সিদ্দিক ছাত্রদলের মধ্যসারির নেতা ছিল। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন এস মুন্সী ওভারসিজ অফিসে ঢুকে চার কিলার ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে বাইরে থেকে অফিসের দরজায় লাগিয়ে চলে যায়। এ সময় হেলাল ও তার আরেক সহযোগী বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা মনিটরিং করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সে ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাড্ডায় ফোর মার্ডারের পরিকল্পনাকারী এই হেলাল। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৫টি অস্ত্র ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মনিরুল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার হয়। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় চারজন। এরা সবাই পেশাদার কিলার। তার মধ্যে দুজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তারা হলো পিচ্চি আল আমিন ও সাদ্দাম। অন্য দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ পুলিশ জানায়, পেশাদার খুনি হিসেবেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় তারা। চাঁদাবাজি বা অর্থ লেনদেনের কারণে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেনি। তবে কেন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। রাজধানীর বনানীর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের একটি বাসায় মুন্সী ওভারসিজ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি চালাতেন সিদ্দিক হোসেন মুন্সী। প্রসঙ্গত, ১৪ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে চার দুর্বৃত্ত এসে সিদ্দিক হোসেন মুন্সীকে নিজ অফিসে গুলি করে হত্যা করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow