Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২৫
আবারও অশান্ত পাহাড়
আজ আধাবেলা অবরোধ
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি
bd-pratidin

জোড়া খুনের ঘটনায় আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা। জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে স্থানীয় প্রশাসন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২০ বছর পরও থামেনি খুন, গুম, চাঁদাবাজি, অপহরণের ঘটনা। পাহাড়ে কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত। শান্তিচুক্তির সমস্ত অর্জন ম্লান করে দিয়েছে পাহাড়ে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অস্ত্রবাজি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব হত্যাকাণ্ডের ইস্যু নিয়ে আবারও পাহাড়ে সংঘাত বাড়তে পারে। এদিকে, গতকাল বিকালে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যার বিচার দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন। বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। এ ছাড়া নানিয়ার চরে সাবেক ইউপি মেম্বার অনাদি রঞ্জন চাকমা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ পালন করবে সংগঠনটি। জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিচুক্তির পর আবারও বৃদ্ধি পায় সংঘাত। চুক্তি মানা না মানা নিয়ে সৃষ্টি হয় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন। তবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছেন, সরকার পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি আনতে চেয়েছিল। কিন্তু বন্ধ হয়নি পাহাড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। জনসংহতি সমিতি বলছে তারা অবৈধ অস্ত্রবাজি করে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রধারীদের কারণে পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজি, খুন, গুম, অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শান্তিচুক্তির পর আমরা ভেবেছিলাম পাহাড়ের মানুষ নির্ভয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু অস্ত্রধারী অঞ্চলিক সংগঠনের কারণে সব স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। তাই পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ তবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেছেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পাহাড়ের পরিস্থিতি এখনো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল : এদিকে, জুরাছড়ি উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি অরবিন্দু চাকমা হত্যার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা যুবলীগ। গতকাল বিকালে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি মো. আকবর হোসেন চৌধুরী। সমাবেশে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই এই অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। যারা জুরাছড়িতে অরবিন্দু চাকমাকে খুন করেছে, তারাই চাঁদাবাজি করে; গুম, অপহরণ করে।’ পার্বত্যাঞ্চলের মানুষকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান চলানোর দাবি জানান তিনি। এর আগে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাঙামাটির নানিয়ার চর ও জুরাছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাবেক ইউপি মেম্বার অনাদি রঞ্জন চাকমা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি অরবিন্দু চাকমা। এ ছাড়া একই দিন সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত হন বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাসেল মার্মা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow