Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮

প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫৮
অনিশ্চয়তার ঘুরপাকে কক্সবাজার বিমানবন্দর
আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার
অনিশ্চয়তার ঘুরপাকে কক্সবাজার বিমানবন্দর

অনিশ্চয়তায় ঘুরপাক খাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজ। রানওয়ের কাজ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি। জমির ক্ষতিপূরণের টাকাও আটকে আছে। তৃতীয় দফায় বাড়ানো এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পুরো শেষ হতে আরও অনেক সময় লাগতে পারে। দীর্ঘসূত্রতায় ২০০৯ সালের ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্প্রসারণ কাজটি তিন দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে ১১৯৩ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে বিমানবন্দরের মূল কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।  কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে সরকার। ২০০৯ সালে ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে ২০১২ সালে ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করে ৫৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে উন্নয়নের এ পরিকল্পনা করা হলেও বিভিন্ন সমস্যায় তা এখনো পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২ জুলাই ১১৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকা বিমানবন্দরের উন্নয়নে ব্যয় হবে।  প্রকল্প অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট, প্রস্থ ১৫০ মিটার থেকে ২০০ মিটার করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে টার্মিনালে আসার ১ লাখ ৯৭ হাজার টেক্সিওয়ে এবং রানওয়ের পিসিএন (পেভমেন্ট শক্তি বৃদ্ধিকরণ) বর্তমান ১৯ একর থেকে ৯০ তে উন্নীতকরণের কাজ করছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান শুধু দিনের বেলায় অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারে। রাতে বিমান ওঠানামার জন্য কোনো ধরনের লাইটিং ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি নেই। আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ বিমানবন্দরে ভিওআর, ডিএমই, ৯০০ মিটার অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে, যাতে দিনের মতো রাতেও বিমান অবতরণ করতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির এসব যন্ত্রপাতি ফ্রান্স, জার্মানি এবং লাইটিং সিস্টেমের সর্বশেষ প্রযুক্তি ইতালি থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফায়ার ফাইটিং ভেহিক্যাল কেনা হবে। বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে, ৮ হাজার ৩৯০ বর্গমিটার নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ। তবে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এখনো নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ছার পেলে নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। প্রকল্পের জন্য ১১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সুরক্ষা বাঁধ ও এলজিইডির ৫৯৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কাজ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও টেন্ডার জটিলতায় এখনো আটকে আছে ব্রিজ নির্মাণের কাজ। অভিযোগ আছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে না পারায় টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে শ্রমিকরা অন্যদিকে স্কেভেটর দিয়ে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। যে অংশে ভরাটের কাজ শেষ সে অংশে এসফল্ট (কার্পেটিং পুরুত্ব ১-১.৫ ফুট) লাগানোর কাজ চলছে। দেশীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে কোরিয়ান হল্লা করপোরেশনের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন সমানতালে। পুরো কাজের মান নিশ্চিত করতে কাজ করছে কোরিয়ান ইউশিং ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কনসালট্যান্টরা। কাজের সুবিধার্থে রানওয়ের লাইট রাতে খুলে রেখে আবার সকালে তা লাগানো হয়। বিমানবন্দরের কাজের জন্য প্রকল্প এলাকার পাশে পাথর ভাঙা, বালু স্তূপীকরণ ও রড কাটার কাজ করছে নির্মাণ শ্রমিকরা। হল্লা করপোরেশনের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। প্রকল্প কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২১০ কোটি টাকা অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে যার পুরোটাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব বলেন, পুরোদমে বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ চলছে। দুই শিফটে শ্রমিকরা কাজ করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মূল বিমানবন্দরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, রানওয়ের কাজ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রকল্পে রানওয়ের পিসিএন বৃদ্ধি (শক্তিশালীকরণ) করার ফলে ৩৫০ টনের বেশি ওজনের বিমান এখানে নামতে পারবে। বর্তমানে এখানে ৫৪ টনের বেশি ওজনের বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের কাজ শেষ হলে এখানে ৭৭৭ বোয়িং বিমান ওঠানামা করতে পারবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজার আসতে আবার এখান থেকে চলে যেতে পারবে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো পর্যটকরা সরাসরি আসতে পারবে। পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে বিমানবন্দরকে ঘিরে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow