Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৬
প্রকৃতি
রাজার ঘরে অসুখী বর্ষারানী
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর
রাজার ঘরে অসুখী বর্ষারানী

রংপুর চিড়িয়াখানায় সিংহ রাজার ঘরে মানসিক কষ্টে দিন কাটছে সিংহী বর্ষারানীর। রাজাকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার দেড় বছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে পারছে না বর্ষা। কয়েকবার হিট এসেছিল বর্ষার। এসময় বর্ষা সখ্যতা গড়তে চাইলেও রাজার তরফ থেকে সাড়া মেলেনি। এনিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি লেগেই আছে। খাবার প্রতিও ঝোঁক কমে গেছে বর্ষার। সারাক্ষণ চেঁচামেচি করে দিন কাটছে তার। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ষার এখন ভরা যৌবন। আর রাজার আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাওয়ায় তার প্রজনন ক্ষমতা একবারেই লোপ পেয়েছে। ফলে দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। সমবয়সী সঙ্গী না পেলে বর্ষা গর্ভধারণও করতে পারবে না।  চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি সিংহ সম্রাট ও সিংহী লাইলী পরিবারে জন্ম নেয় সিংহ শাবক রাজা ও বাদশা। ২০১১ সালের ৭ জুন সম্রাট এবং ১৬ নভেম্বর লাইলীর মৃত্যুর পর থেকে একই খাঁচায় বেড়ে ওঠে সিংহ রাজা ও বাদশা। সঙ্গীহীন দিন কাটছিল তাদের। অপরদিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া দুই বোন সিংহী নোভা ও বর্ষাও সঙ্গীহীন দিন কাটায়। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। পরে দুই চিড়িয়াখানার মধ্যে সিংহ-সিংহী বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে সিংহী বর্ষারানীকে রাজার সঙ্গী হিসেবে আনা হয় রংপুরে। পরদিন বাদশাকে নোভার সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামে। দুদিন পর রাজার খাঁচায় দেওয়া হয় বর্ষাকে। বর্ষার বয়স এখন ১২ বছর। আর রাজার বয়স এখন ২৭।

রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ইন্ডিয়ান লায়ন’ প্রজাতির সিংহ-সিংহীর গড় আয়ু ১৬ থেকে ১৮ বছর। সে অনুযায়ী সিংহ রাজার আয়ুষ্কাল অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। ফলে রাজার স্বাভাবিক চাঞ্চল্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি তার প্রজনন ক্ষমতাও লোপ পেয়েছে। একই খাঁচায় বসবাসের দেড় বছরে আটবার হিট এসেছিল বর্ষার। মিলন না হওয়ায় গর্ভধারণ করতে পারেনি বর্ষা। রাজার প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে কয়েক দফা চিকিৎসা করেও কোনো ফল হয়নি। বর্ষার বংশ বৃদ্ধির জন্য একটি তরুণ সিংহ চেয়ে গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলে দুদফায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। চিড়িয়াখানার প্রাণী তত্ত্বাবধায়ক (এ্যানিমেল কেয়ারটেকার) আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা কিছুতেই রাজাকে সহ্য করতে পারছে না। বর্ষা আগের মতো খাচ্ছেও না। ফলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow