Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:০৬
ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে নিহত এক, আহত অর্ধশত
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর বাজার এলাকায় গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ পুলিশসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। ঘণ্টাব্যাপী দুপক্ষের এ হামলায় কৃষ্টপুর বাজারের ৪০টি দোকানে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১৩৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কৃষ্টপুর বাজার এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা আকতারুজ্জামান তিতাসের সঙ্গে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গ্রুপের সমর্থক কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলছিল। বিগত দিনে এলাকার আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ হাটকৃষ্টপুর বাজারের ইজারা ও বিল্লাল চেয়ারম্যানের সমর্থক এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা নিয়ে দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রবিবার দুপুরে বিল্লাল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট ইনজামামুল হক মিঠুকে যুবলীগ নেতা তিতাসের লোকজন ফরিদপুরের আদালত এলাকায় লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় বেশকিছু বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে বিবদমান দুই গ্রুপ কৃষ্টপুর বাজারের দুই পাশে জমায়েত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিতাসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মান্নান সিকদারকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহত মান্নান সিকদার রাধানগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ সময় পাল্টাপাল্টি হামলায় বাজারের কমপক্ষে ৪০টি দোকান ও কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সদরপুর থানা ও পুলিশ লাইনের ৯ পুলিশ আহত হয়।

up-arrow