Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২২:৫২
ঝড়-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম
ঝড়-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে
bd-pratidin

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ছোট ছোট ঝুপড়িতে কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও তা টিকছে না ঝড়ো হাওয়ার আঘাতে। কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইছে কক্সবাজারে। এ ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর ও ঝুপড়ির ছাউনি। বিশেষ করে খোলা পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়চূড়ায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গারা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছেন। ফলে আশ্রিত মানুষগুলোর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সপ্তাহখানেক আগে থেকে উখিয়ায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে প্রায় প্রতিদিন। সোমবার বিকালে ও রাতে কক্সবাজারের  উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পে হাজারের অধিক পলিথিনের ছাউনি উড়ে গেছে। সঙ্গে বৃষ্টিপাতের কারণে ঝুপড়ির মেঝেগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হয় পরিবারের সদস্যদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে কিছু কিছু এনজিও এসব ক্ষতিগ্রস্ত ঝুপড়ি সংস্কারের জন্য পলিথিনসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করলেও অনেকেই কামলা সংকটের কারণে তা এখনো মেরামত করতে পারেননি। আবার অনেকের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুপড়িগুলো সংস্কারের সামর্থ্যও নেই। বিশেষ করে পুরুষ না থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলো চরম বেকায়দায় রয়েছে বলে জানা যায়। বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি আবু তাহের জানান, সোমবার মধ্যরাতে ক্যাম্পের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় পাহাড়ের ওপরে যেসব ঝুপড়ি ছিল তা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এসব পরিবার পাশের ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে বিভিন্ন এনজিও ক্ষতিগ্রস্ত ঝুপড়িগুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সহায়তা করছে। এ সময় অসংখ্য পরিবারে চুলা জ্বলেনি। এতে অনাহার-অর্ধাহারে দিনযাপন করতে হয়েছে অনেককে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, পাহাড়ের ওপরে-ঢালুতে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ ঝুপড়ি রয়েছে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা বসতি তৈরি করার শুরুতেই এখানে গাছ-গাছালি কেটে ফেলেছে। পরে গাছের শিকড়গুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য উপড়ে ফেলার কারণে মাটির গুণগতমান বা ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। যে কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow