Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:০৯
বাদশার সঙ্গে লড়াই কার মিনু না বুলবুল?
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
বাদশার সঙ্গে লড়াই কার মিনু না বুলবুল?

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের লড়াই শেষ হতেই এবার আলোচনায় আগামী সংসদ নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে বড় দুই জোটে সদরে কে প্রার্থী হচ্ছেন— এ নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে। সিটি নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে থাকলেও বিএনপির সিনিয়র নেতা মিজানুর রহমান মিনুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিনুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কাছে নালিশও করেছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে আগামী নির্বাচনে বুলবুলকে সদরে প্রার্থী করার দাবি আছে। আর জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে ১৪ দলের প্রার্থী হচ্ছেন ফজলে হোসেন বাদশা। তাই নগরবাসীর মনে নতুন প্রশ্ন— আগামীর লড়াইটা কি তাহলে বাদশা-বুলবুলের?

সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ (সদর) আসন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তবে তার দুশ্চিন্তা কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে। মিনুর সঙ্গে মহানগরী বিএনপি সভাপতি ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরোধ আছে। মিনুবিরোধীরা এ আসনে প্রার্থী হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে কাজ করছেন। তারা আপাতত প্রকাশ্যে রিজভীর কথা বললেও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বুলবুলকে নিয়ে ভাবছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মিনুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিনুর বিকল্প হিসেবে রিজভী অথবা বুলবুলকে দেখছেন তারা।

রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিনু। মূলত ’৮০ ও ’৯০-এর দশকে মিনু দক্ষ সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মিনুর নেতৃত্বেই এ অঞ্চলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি মহানগরী বিএনপির সভাপতি হিসেবে দুই যুগ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে মহানগরী বিএনপির সভাপতি হিসেবে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে বুলবুলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মিনুর অনুসারীরা। মিনুর সমর্থক নেতা-কর্মীরা গঠন করেন ‘বিএনপি বাঁচাও কমিটি’। মিনুর সমর্থকরা বলছেন, মিনুই পুরো উত্তরাঞ্চল বিএনপির প্রাণ। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। সংগঠনের প্রতি মিনুর আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার কারণে বিএনপির হাইকমান্ড তাকে রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন দেবে বলে তাদের দাবি। মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি উদার গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই। আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দল পরিচালনা করছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’ রাজশাহীতে রিজভীর নির্বাচনের প্রস্তুতির গুঞ্জন এখন দৃশ্যমান হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টারের মাধ্যমে। মিনুবিরোধীরা রিজভীর জন্য ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে নেমেছেন। ঈদসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মোড়ে রিজভীর পোস্টারে নগরবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে। রিজভী দীর্ঘ সময় রাজশাহীতে রাজনীতি করেছেন। রাজশাহীর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা তার। রিজভী-বুলবুল পক্ষের নেতা-কর্মীরা বলছেন, রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন। রাকসুর ভিপিও ছিলেন। বর্তমানেও রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে তার ভূমিকা বিদ্যমান। এসব বিবেচনায় তার পছন্দমতো রাজশাহী-২ আসনে প্রার্থিতা করার সুযোগ পেতে পারেন বিএনপির ক্রান্তিকালের এই নেতা। তাদের দাবি, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠকে মিনুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ ওঠে এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে মিনুর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রিজভী অথবা বুলবুলকে নিয়ে ভাবতে দলের হাইকমান্ডকে তারা দাবি জানাবেন। নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ৩০ জুলাইর সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তার প্রতি দলের একটি বড় অংশের সহানুভূতি আছে। এ ছাড়া ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন বুলবুলের সমর্থকরা। এ কারণে তারা বুলবুলকে সদর আসনে প্রার্থী করার দাবি জানাবেন। কেন্দ্র থেকেও বুলবুলকে মাঠে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, দল নির্বাচনে গেলে কোন আসনে কাকে মনোনয়ন দিলে ফল ভালো হবে, তা হাইকমান্ড চূড়ান্ত করবে। ধানের শীষের পক্ষে সব নেতাকেই মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow