Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৩৪
আকাশবীণায় যত চমক
বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭ বিমান আসছে ১৯ আগস্ট, ১ সেপ্টেম্বর প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা
জিন্নাতুন নূর
আকাশবীণায় যত চমক
bd-pratidin

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের বহু প্রতীক্ষিত ও চতুর্থ প্রজন্মের সর্বাধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭, ‘আকাশবীণা’ আগামী রবিবার বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির কারখানা থেকে সরাসরি ১৫ ঘণ্টা ৩২ মিনিটের যাত্রা শেষে) ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। যাত্রী আগ্রহের কারণে এরই মধ্যে উড়োজাহাজটির প্রথম দিনের বাণিজ্যিক যাত্রার ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। আর সেদিনই সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের আকাশবীণার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে।

শুরুর দিকে আকাশবীণা দিয়ে প্রতিদিন সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। সকালে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে            যাবে আকাশবীণা। যাত্রার শুরুতে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা ফিরতি যাত্রার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ একটি প্রমোশনাল অফার দিচ্ছে। এর টিকিট মূল্য ২০০ মার্কিন ডলার। আর ঢাকা-কুয়ালালামপুর ফিরতি যাত্রার টিকিট মূল্য ২৯০ মার্কিন ডলার। আকাশবীণায় সুবিধাদি সম্পর্কে খোঁজ নিলে বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, চতুর্থ প্রজন্ম এই উড়োজাহাজটির ককপিটটি পেপারলেস। এর ককপিটে পাইলটরা আইপ্যাড বা ল্যাপটপ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারবেন। এই ককপিটে আছে হেড আপ ডিসপ্লে। এতে পাইলট সহজেই তার চারপাশের জিনিস তার আসনে বসে দেখতে পারবেন। ফলে পাইলটের পক্ষে নিরাপদে ও আরও দক্ষভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা সহজ হবে। এ ছাড়া গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়াররা ইন্টারনেটের সাহায্যে উড়োজাহাজটির যাত্রাকালীন সময় এর গতিবেগ, জ্বালানির পরিমাণ ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় নজরদারি করতে পারবেন।  দেশের প্রথম ড্রিমলাইনারে আছে মোট ২৭১টি সিট। এর মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস। বাকি ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের একটি সারিতে ৬টি এবং ইকোনমি ক্লাসে ৯টি করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীর আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ‘ফ্লাটবেড’ ব্যবস্থায় তৈরি করা হয়েছে, যা ১৮০ ডিগ্রিতে ঘুরতে সক্ষম। এই সিটের জানালাগুলো আকারেও অন্য উড়োজাহাজ থেকে বেশ বড়। আর কেবিনগুলোও অন্য যাত্রীবাহী প্লেনের চেয়ে বড়। এ ছাড়া ইকোনমি ক্লাসের সিটগুলোতে ৩১ ইঞ্চি পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। এই উড়োজাহাজের জানালায় আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিমিং কাচ ব্যবহার হয়েছে। তাই যাত্রীরা বাইরের দৃশ্য সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবেন। আলো ও তাপমাত্রার ভিত্তিতে এই জানালার কাচের রং পরিবর্তন হবে। বিমান বাংলাদেশের আগের যে কোনো মডেলের বিমানের তুলনায় বিনোদনের দিক দিয়ে আকাশবীণা এগিয়ে। আধুনিক বিমানের আসনগুলোর সঙ্গে প্যানাসনিকের নতুন ই-এক্স মনিটর সংযুক্ত আছে। এতে যাত্রীরা ১০০টির বেশি অন ডিমান্ত মুভি এবং গেমস উপভোগ করতে পারবেন। আকাশবীণায় আরও থাকছে থ্রিডি রুটম্যাপ। এর মাধ্যমে ডিসপ্লেতে বিমান যে স্থানের ওপর দিয়ে উড়ে যাবে তার নিচের সব স্থাপনা দেখা যাবে। আর যাত্রীদের মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে তারা প্লেনে বসেও ফোন দিতে পারবেন। এমনকি আকাশবীণার যে টয়লেট সেটিও আগের প্লেনগুলোর তুলনায় আকারে বেশ বড়। এর আছে স্বয়ংক্রিয় টয়লেট এবং সিংক। নতুন এই উড়োজাহাজে চমক হিসেবে আরও থাকছে ওয়াইফাই সুবিধা। আকাশে থাকা অবস্থায় ওয়াইফাই দিয়ে যাত্রীরা ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ১০০ মেগাবাইটের জন্য ৮ ডলার আর তিনশ মেগাবাইট ইন্টারনেটের জন্য গুনতে হবে ১৬ ডলার। এ ছাড়া বিবিসি এবং সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক ৯টি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানও এতে দেখা যাবে।  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৯ তারিখে দেশে আসার পর কিছুদিন উড়োজাহাজটির কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, সিভিল এভিয়েভিশন রেজিস্ট্রেশনসহ আনুষঙ্গিক বেশ কিছু কাজ শেষ করা হবে। তিনি আরও জানান, বিমান পরিচালনার জন্য ১৪ জন বাংলাদেশি পাইলট এবং ১১২ জন এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারকে সিঙ্গাপুরে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আকাশবীণায় উন্নয়নের ব্যাপারে যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জানা যায়, এই আধুনিক উড়োজাহাজটি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী। অন্য উড়োজাহাজের তুলনায় এটি ২০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে। একবার জ্বালানি নেওয়ার পর টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। এ ছাড়া ওজনেও অন্য বিমানের তুলনায় হালকা।

up-arrow