Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:০৮
ট্রেনে বিলম্ব সড়কে যানজট
নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রেনে বিলম্ব সড়কে যানজট

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে বিড়ম্বনায় পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা। ট্রেন সময় না মানায় এই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে বাসে যাত্রীদের চাপ কম থাকায় বাস ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ে। বিকাল থেকে সদরঘাটে প্রচণ্ড ভিড় ছিল দক্ষিণাঞ্চলগামী ঘরে ফেরা মানুষের। গতকাল খুব ভোর থেকেই বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে কমলাপুর এবং বিমানবন্দর স্টেশনে। কিন্তু যাত্রীদের উপস্থিতির তুলনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নির্দিষ্ট গন্তব্যের ট্রেনগুলো সময়মতো না ছাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। প্রতিটি ট্রেনই ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর। যার ফলে রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় লেগে যায়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল চারটি বিশেষ ট্রেনসহ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে কমলাপুর ছেড়ে গেছে মোট ৬৮টি ট্রেন। তার মধ্যে রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর সকাল ৭টায় কমলাপুর ছেড়ে যায়। তারপর থেকেই প্রতিটি ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে। তবে বিলম্বে ছাড়লেও প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীর চাপ ছিল বেশি।

অন্যদিকে গতকাল রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের তেমন ভিড় ছিল না। গাবতলী, মহাখালী টার্মিনাল এবং কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, তেমন ভিড় নেই। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও পথে পথে ভোগান্তি ছিল দীর্ঘ যানজটের কারণে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর—

কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে গতকাল যানজটের তীব্রতা কম ছিল। তবে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল। পরিবহন চালকদের সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে এই মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে মুন্সীগঞ্জ পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যানজট ছিল। গতকাল কুমিল্লা অংশে যানজটের মাত্রা কমে আসে। দাউদকান্দি উপজেলার গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে বারপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দুপুরের দিকে এই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় বিকাল পর্যন্ত যানজট ছিল। হাইওয়ে পুলিশের সূত্র জানায়, শুক্রবার-শনিবার ছুটির দিন হওয়ার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি ছিল।

ঝালকাঠি : বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সড়কের ওপর গরুর হাট বাসানো হয়েছে। এ ছাড়াও ঝালকাঠি শহর থেকে বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার পথে গুরুদম এলাকায়ও বসানো হয় পশুর হাট। ফলে এসব সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এলে গতকাল সকাল থেকে অভিযান শুরু করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ : পদ্মায় নাব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে গতকালও ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ির এই নৌরুটে নাব্য সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলতে পারছে না।  বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারি জানান, বিকল্প চ্যানেলে পানির গভীরতা আছে ৪-৫ ফুটের মতো, কিন্তু ফেরি চালাতে প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুটের মতো। ব্যবহার করে আসা এই চ্যানেলটিতে বর্তমানে পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে পূর্বের সরাসরি মূল চ্যানেল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনগুলোকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এরপরও ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় আছে।

ফরিদপুর : পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে ধীরগতিতে ফেরি চলাচল, অন্যদিকে যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে হাজারো যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। গত শুক্রবার থেকে অতিরিক্ত গরুর ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপের কারণে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘাট এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে গতকাল বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার ছোট বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকা থাকায় অতিরিক্ত গরমে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নাব্য সংকট থাকা এবং অল্প পরিমাণে ফেরি চলাচল করায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে চাপ বেড়েছে। ঈদের কারণে যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে তিনটি রো রো ফেরি ও একটি কে-টাইপের ফেরি যুক্ত করা হলেও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘাট কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন জানান, পদ্মায় প্রবল স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ নৌরুটে প্রায় ২০টি ফেরি চলাচল করলেও আরও ফেরি বাড়ানো দরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow