Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:২৭
চলছে রূপসা নদীতে পাইলিং
খুলনা-মোংলা রেলসেতুর প্রথম স্প্যান বসেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনা-মোংলা রেলসেতুর প্রথম স্প্যান বসেছে
রূপসা নদীর খুলনা শহর অংশে বসানো হয়েছে প্রথম স্প্যান —বাংলাদেশ প্রতিদিন
bd-pratidin

বহুল প্রত্যাশিত খুলনা-মোংলা রেলসেতু দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি মাসেই রূপসা নদীর খুলনা শহর অংশে বসানো হয়েছে প্রথম স্প্যান। সেতুর ৬৬ ও ৬৭ নম্বর পিলারের ওপর মাটি থেকে ১৬ মিটার উঁচুতে বসানো হয়েছে এ স্প্যান। এ ছাড়া ভারতে নির্মিত ৩২ দশমিক ৫ মিটারের আরও ৮টি স্প্যানের বিভিন্ন অংশ প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। এখন চলছে নদীগর্ভে পাইলিং। পর্যায়ক্রমে ১৪২টি স্প্যান বসিয়ে তৈরি হবে এ সেতু। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দ্রুত গতিতে চলছে রেললাইন ও রেলস্টেশন নির্মাণের কাজ। প্রকল্পের আওতায় ৬৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ, প্রায় ৫ কিলোমিটার রেলসেতু, ২১টি ছোটখাটো ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ হলে ২০২০ সালের মধ্যে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। এতে মোংলা বন্দর পুরোপুরি সচল হবে আর শিল্পনগরী খুলনা ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য। জানা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেলসেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ ও রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকি টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। খুলনার রূপসা সেতুর ৫ কিলোমিটার ভাটিতে বটিয়াঘাটা উপজেলায় রেলসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসেন ও টুবরো লিমিটেড ইনফ্রাস্ট্রাকচার আইসি রেলসেতু নির্মাণ করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, রেলসেতুর ৯০৮টি পাইলিংয়ের মধ্যে ৪০০ পাইলিংয়ের কাজ হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নয় মাসে পাইলিং স্থাপনের অগ্রগতি শতকরা ৪৫ ভাগ। এ বছরের মধ্যে বাকি পাইলিংয়ের কাজ শেষ হবে। এরপর পাইল ক্যাপ, পিআর-পিআর ক্যাপ ও স্প্যান বসানো হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৬৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ করছে ভারতীয় ঠিকাদার ইরকোন। ইতোমধ্যে ১০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ভারত থেকে রেলপাতি আনা হয়েছে ১০ হাজার ৮০০ টন। ২১টি ছোটখাটো ব্রিজের মধ্যে ১১টির পাইলিং ও ৩০টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮টি স্টেশনের মধ্যে ফুলতলা স্টেশনের ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে খুলনা-মোংলা রেললাইন চালু হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। এদিকে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, মোংলা থেকে বর্তমানে সড়ক ও নৌপথে পন্য আনা-নেওয়া করা হয়। রেলের ওয়াগানে পণ্য আনা-নেওয়া করা হলে খরচ অনেক কমে যাবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মোংলা বন্দরের প্রাণ সঞ্চার হবে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, খুলনা-মোংলা রেললাইন, পদ্মা সেতু, মোংলা বন্দর, ভৌত অবকাঠামো সব মিলিয়ে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার সৃষ্টি হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ভারতের সেভেন সিস্টারসের সঙ্গে আন্তযোগাযোগ স্থাপন ও নেপাল-ভুটানের ট্রানজিটের কেন্দ্রবিন্দু হবে মোংলা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow