Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:২৮
ইভিএমে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা
আওয়ামী লীগ বিএনপির বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া
গোলাম রাব্বানী ও রুহুল আমিন রাসেল
ইভিএমে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা
bd-pratidin

সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা হলেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন— স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ভালো ফলাফল দেখা গেছে। প্রযুক্তির যুগে দীর্ঘ মেয়াদে ইভিএমে ভোটগ্রহণের দিকেই যেতে হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করার উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

ইভিএম ব্যবহারে আরপিও সংশোধনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। ২০১০ সালে এ কমিশনারের আমলে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়েছিল সিটি নির্বাচনে। তিনি গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরাই তো ইভিএম শুরু করেছিলাম; অনেকদূর এগিয়েছিলাম। এ প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান কমিশনও আইনগত ভিত্তিটাই শক্ত করে রাখতে চাইছে। সময় কম এখন, স্বল্প পরিসরে তা করা যেতে পারে। এই সাবেক নির্বাচন কমিশনার মনে করেন, ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকবেই। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা, ভোটারদের আস্থা, দক্ষজনবল তৈরির কাজ ইসিকে করতে হবে। এর আগে আমরাও স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করেছি। এবারও স্থানীয় নির্বাচনে কিছু ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। তা নিয়ে তেমন অভিযোগও নেই। ইভিএমে যেমন সহজে দ্রুত ভোট দেওয়া যায়, তেমনি ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা যায়। ইভিএমে ভোট দিয়ে ভোটাররাও খুশি। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস— বেসিসের সাবেক সভাপতি শামিম আহসান ইভিএম প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে ইভিএম মেশিন কেনা হচ্ছে, সেগুলোর যন্ত্রপাতি ও প্রোগ্রামিং যদি নিরপেক্ষ থাকে এবং সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়, কোনো রকম জালিয়াতির সুযোগ নেই। বুয়েট, নির্বাচন কমিশন ও বেসিসসহ নিরপেক্ষ ও দক্ষতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ দ্বারা যদি ইভিএম ব্যবস্থাপনা করা হয় তাহলে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। দেশের অন্যতম এই তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মনে করেন— দীর্ঘমেয়াদি ইভিএম প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভোট কারচুপির সুযোগ কমে আসবে। দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে। এতে সময় কম লাগবে। কারণ, এখানে স্বচ্ছতা থাকে। এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তুলে ধরা উচিত। ইভিএমে জালিয়াতি করা সহজ নয়। শামিম আহসানের মতে, আস্তে আস্তে প্রযুক্তির দিকে যাওয়া উচিত। একই সঙ্গে জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এবার ভোটে যদি ইভিএম ব্যবহার করাও হয়, সেটা পাইলট ভিত্তিতে করা উচিত। ঢালাওভাবে ৩০০ আসনে না করে, কিছু কিছু আসনে ইভিএমে ভোট করে টেস্ট করা যেতে পারে। মানুষকে এটা ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হবে।

ইভিএম নিয়ে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির : জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ দেখাতে পারবে না বলেই ইভিএম চাচ্ছে না বিএনপি। তবে নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করতেই আমরা ইভিএম সাপোর্ট করি। ইভিএমে অভিযোগ তোলার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল সকালে সিলেটে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা দূর করতেই আমরা ইভিএম চাই। ইভিএম হচ্ছে আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি। সিলেটেও বিএনপি দুটি ইভিএমের কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে। তারা জিতলে মানবে হারলেই কারচুপির অভিযোগ তুলবে। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতে পারবে না বলেই নানা অভিযোগ করছে। এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনকে দেখছেন ‘ভোটচুরির জাদুর বাক্স’ হিসেবে। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহারের একতরফা সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে জালিয়াতি করারই চূড়ান্ত মাস্টার প্ল্যান’। তিনি বলেন, ‘সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় জনগণের যে ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয়, তাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না।

অনুগত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ইভিএম নামক জাদুর বাক্স আমদানি করে আগামী সংসদ নির্বাচনে ধাপ্পাবাজির ভোটের বন্দোবস্ত করছেন।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এবার জনগণ সরকারের সব মাস্টারপ্ল্যান ডাস্টবিনে ফেলে  দেবে। ভোট নিয়ে অনাচারের পুনরাবৃত্তি জনগণ রুখে দেবে। এবার জনগণের কঠোর ঐক্যে সরকারের সব পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow