Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৪
বঙ্গবাজারের শীতবস্ত্রের কদর ভুটানজুড়ে
শিমুল মাহমুদ, ভুটান থেকে ফিরে

ঢাকার বঙ্গবাজারের শীতবস্ত্রের কদর ভুটানজুড়ে। হিমালয়ের পাদদেশে পাহাড় পরিবেষ্টিত ভুটানে সব সময়ই ঠাণ্ডার রাজত্ব থাকে। শীতকালে অধিকাংশ জায়গায় বরফ পড়ে। অন্য সময়েও প্রকৃতিতে শীতের আমেজ থাকে পুরোপুরি। প্রায় সারা বছরই শীতবস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে ভুটানিদের। তারা এসব শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ও চীন থেকে। ঢাকার বঙ্গবাজারই ভুটানের শীতবস্ত্রের বড় জোগানদাতা। ভুটানের রাজধানী থিম্পু ও পূর্বতন রাজধানী পুনাখার একাধিক মার্কেটের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় বঙ্গবাজার থেকে শীতের কাপড় সংগ্রহ করেন ভুটানের ব্যবসায়ীরা। ভারতের কাপড় তাদের দামে পোষায় না। ভারত গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকেই বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করছে। ঢাকায় প্রচণ্ড দাবদাহ রেখে ২৪ আগস্ট যখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার জয়গাঁও পেরিয়ে ভুটানের ফুয়েন্টশোলিং পৌঁছি তখন রাত সাড়ে ১০টা। ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আমাদের স্বাগত জানায়। দোকানপাট বেশ আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাজুড়ে অসংখ্য কুকুরের আনন্দময় বিচরণ। ভ্রমণসঙ্গীরা সবাই লাগেজ হাতে পেয়ে শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়েছেন। হোটেল নামগেতে বুফে রাতের খাবার শেষে রাস্তায় বেরিয়েই মনে হলো একেবারে যেন শীতের দেশে চলে এসেছি। ভারত ও ভুটানের ইমিগ্রেশন সারতেই বিভিন্ন বয়সী ৪৩ সদস্যের পুরো টিমটির পরদিন বিকাল পর্যন্ত কেটে যায়। এই দীর্ঘ সময় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে ফুয়েন্টশোলিংয়ের বিভিন্ন দোকানে, শপিং মলে। নামগে হোটেলের পাশের একটি বস্ত্র বিপণিতে তৈরি পোশাক দেখে নিজেদের মধ্যে কথা বলছি। আলাপচারিতা শুনে মহিলা বিক্রেতা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানতে চাইলেন, ‘আর ইউ ফ্রম বাংলাদেশ? দিস ইজ কেম ফ্রম বঙ্গবাজার।’ ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে শীতের কাপড় ভারতের শিলিগুঁড়ি, দার্জিলিং ও নেপালে যায়। ভুটানেও বঙ্গবাজারের শীতবস্ত্র বেশ জনপ্রিয় জানা ছিল না। ভদ্রমহিলা জানান, তিনি ঢাকার নিউমার্কেট চেনেন, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, চকবাজার ইসলামপুর প্রায়ই যান কাপড় আনতে। তার দোকানের অধিকাংশ কাপড় যে বঙ্গবাজার থেকে নিয়ে আসা সেটাও উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন।

জানা যায়, রাজধানী থিম্পুসহ পুরো ভুটানে বঙ্গবাজারের শীতবস্ত্রের বেশ কদর। কারণ, বঙ্গবাজারে অনেক কম দামে শীতের কাপড় পাওয়া যায়। তাই শীতের কাপড়ের জন্য ভুটানের দোকানিরা ঢাকার বঙ্গবাজারে কাপড় কিনতে যান। ভুটানের শীতের কাপড়ের প্রধান জোগানদাতা বাংলাদেশ ও চীন। কিন্তু কম দামের কারণে বাংলাদেশের বঙ্গবাজার তাদের প্রথম পছন্দ। বঙ্গবাজারের বিসমিল্লাহ গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বললেন, এখানে শুধু দেশি ক্রেতারাই নন, বিদেশি ক্রেতারাও কাপড় কিনতে আসছেন। দার্জিলিং, নেপাল, ভুটান থেকে পাইকারি ক্রেতারা এসে শীতবস্ত্র নিয়ে ওই সব দেশে বিক্রি করছেন।

বাংলাদেশ থেকে শুধু শীতবস্ত্রই নয়, ভুটানে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্য। প্রাণ গ্রুপের খাদ্যপণ্য, কেয়া কসমেটিকসের সাবান, ডিটারজেন্ট, বম্বে সুইটসের ‘পটেটো ক্র্যাকার্স’সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য পণ্য পাওয়া যায় ভুটানের বিভিন্ন শহরের দোকান ও শপিং মলগুলোতে। চীন ও ভারতের নানা পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব পণ্য ভালো জায়গা করে নিয়েছে ভুটানের বাজারে। বিশাল চীন ও ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে ঘেরা এক অনিন্দ্য সুন্দর পার্বত্য জনপদ ভুটান। আকাশছোঁয়া পাহাড়ের বিস্তীর্ণ সবুজে নিমগ্ন স্বল্পবাক মানুষের আবাসভূমি ভুটান। ঢাকার তীব্র গরমে চলতে গিয়ে মনেপ্রাণে ভুটানের সেই শীতল পরশের অভাব অনুভব করছি। মন চাইছে আবার ভুটান গিয়ে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow