Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৯
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা
মামলার পুনঃতদন্ত চান বাবরের আইনজীবী
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুই মামলার পুনঃ তদন্ত চাইলেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী এস এম শাহজাহান। গতকাল দুই মামলার অন্যতম আসামি বাবরের পক্ষে দশম দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই আইনজীবী বলেন, ‘এ মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ খুবই স্ট্রং, কিন্তু তদন্ত হয়েছে খুবই দুর্বল। তাই পুনঃ তদন্ত হওয়া দরকার।’

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একসঙ্গেই বিচার চলছে দুটি মামলার। গতকাল বেলা ১২টায় বিচারকাজ শুরু হয়। সোয়া ২টায় বিচারক যুক্তিতর্ক শুনানি আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেন। এ দুই মামলায় এ পর্যন্ত ৪৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান ছাড়াও বিশেষ পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, মোশাররফ হোসেন কাজল, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাবরের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান যুক্তি উপস্থাপনের সময় তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম। আইনজীবী এস এম শাহজাহান শুনানিতে বলেন, ‘যে জবানবন্দির ভিত্তিতে বাবরকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, মুফতি আবদুল হান্নানের সেই দ্বিতীয় জবানবন্দিকে আমি এভিডেন্স বলব না। কারণ আইনে এটির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু আছে? এ ক্ষেত্রে আমার দুঃখ করা ছাড়া কী করার আছে!’ তিনি আদালতে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেন হত্যা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র করবেন বাবর? তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ নন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষও পাননি তিনি। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচনও করতে যাবেন না। তাহলে একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়ে কেন মুফতি আবদুল হান্নানের মতো একজন লোকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করবেন? কোনো জনমে কোথাও পাপ করেছিলেন, যে কারণে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হতে এসেছিলেন!’ এস এম শাহজাহান শুনানিতে বলেন, ‘বাবর যদি ষড়যন্ত্র করতেন তাহলে তো তিনি তার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিশেষ আদালত গঠন করে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করে দিতে পারতেন।’ মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে দলীয় সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় দলীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন কয়েক শ মানুষ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow