Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৫
ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার
মির্জা মেহেদী তমাল
ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার

২০১৬ সালের ২৪ জুলাই উত্তরার দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রী শাহিদা বেগমকে (৫০) হত্যা করে পালিয়ে যায় এক যুবক। এই খুনি ওই বছরের ২১ আগস্ট দক্ষিণখানের তেঁতুলতলা রোডে গৃহকর্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে (৫২) একই কায়দায় হত্যা করে। একই বছরের ৩১ আগস্ট দক্ষিণখানের মুন্সী মার্কেট এলাকায় জেবুন্নিছা চৌধুরীকে (৫৬) কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। একই কায়দায় এরপর এই খুনি খুন করে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরে গৃহকর্ত্রী ওয়াহিদা আক্তারকে (৪৮)। এসব খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার তদন্তে দেখতে পেয়েছে, খুনি একই কায়দায় নারীদের খুন করেছে।

এসব নিয়ে যখন তোলপাড়, তখন খুন হলেন আরেকজন। নাখালপাড়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা বেগমকে একইভাবে খুন করে পালিয়ে যায় খুনি। এ ঘটনাটি এ বছরের মার্চের। কিন্তু কে এই সিরিয়াল কিলার? যার টার্গেট কেবল নারীরা। একের পর এক চার নারীকে খুন করে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে এই খুনি। তদন্তে দেখা গেছে, একই কায়দায় প্রতিটি খুন করা হয়েছে। খুনের পর কোনো প্রমাণও রাখছে না। খুনি খুবই সচেতন এবং সতর্ক। বাসা ভাড়া নেওয়ার নাম করে বাড়ির মালিককে খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে এই ঘাতক। প্রতিটি খুনের শিকার নারী। রাজধানীর উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া পৃথক চারটি খুনের ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ ধারণা করছে ঘাতক সিরিয়াল কিলার। মার্চে এক দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার নাখালপাড়ায় বাসায় ঢুকে বাড়ির মালিক আমেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সঙ্গেও উত্তরখান এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার মিল রয়েছে। পূর্বের খুনের ঘটনায় সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘাতকের বয়স ৩০-এর কাছাকাছি। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। গায়ের রং ফর্সা। মাথার চুল ছোট। কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো। খুনের পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল তদন্ত করে পুলিশের ধারণা ঘাতক একজন সিরিয়াল কিলার। এদিকে নাখালপাড়ার খুনের ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাবু হাসান রাসেল বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় হত্যার কারণ ও আসামিরা অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ঘটনাটি তদন্ত করে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্য মিলেনি। উত্তরখান এলাকায় পৃথকভাবে চার নারী খুনের শিকার হন। তারা বাড়ির মালিক ছিলেন। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ফ্ল্যাট দেখার সময় মালিকের গলা কেটে অথবা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার সঙ্গে বৃদ্ধা আমেনা খাতুন খুনের মিল রয়েছে।’ পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, হামলা ও খুনের সব ঘটনা তদন্ত করে এর নেপথ্যে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার কোনো সহযোগী ছিল বলেও তথ্য মেলেনি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, খুনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। এমন হতে পারে, কোনো কারণে বাড়ির মালিক নারীদের প্রতি তার বিদ্বেষ রয়েছে। এ কারণে সে বেছে বেছে শুধু মধ্যবয়সী গৃহকর্ত্রীদের ওপরই হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ খুনের আগে সে কয়েকটি বাসায় ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ঢুকতে চেয়েছিল। তবে এর আগের ঘটনাগুলোয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় কেউ দরজা খোলেননি। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাড়া নিতে আসলেই যখন তখন ঘর দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অচেনা অজানা কাউকে বাসা দেখাতে হলে অবশ্যই একজন যাওয়াটা ঠিক হবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow