Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৬
কারাগারে আদালত
সংবিধান লঙ্ঘন হয়নি : কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংবিধানের কোথাও বলা হয়নি, কারাগারের ভিতরে আদালত বসিয়ে বিচার করা যাবে না। কাজেই খালেদা জিয়ার মামলায় কারাগারের ভিতরে আদালত স্থাপনে সংবিধানের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। গতকাল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় ধানমন্ডিতে নতুন ভবনে দলের যৌথ সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে আয়োজিত এই যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নেতারা ছাড়াও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যোগ দেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আগামী নির্বাচন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিক আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, নৌকার জন্য সবাইকে এখন থেকেই মাঠে নামতে হবে। আগামী নির্বাচনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে বিএনপি পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা করবে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন নির্বাচন বানচাল না করতে পারে। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিচারে কারাগারের মধ্যে আদালত বসানো সংবিধানের লঙ্ঘন। কিন্তু আমি জানতে চাই, সংবিধানের কোথায় লেখা আছে কারাগারে আদালত বসানো যাবে না? এটা যদি সংবিধানের লঙ্ঘন হয়, তাহলে সেটি করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। বিএনপির নেতারা কি ভুলে গেছেন, কর্নেল তাহেরের বিচার করে ফাঁসি কীভাবে কোথায় হয়েছিল? কারাগারে আদালত বসিয়ে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। তিনি অসুস্থ। মামলার জন্য আদালতে হাজিরা দিতে তার চলাফেরা করা খুব কষ্টকর। তাই তার মামলায় হাজিরা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কারাগারের ভিতর আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এটা যদি খালেদা জিয়া না মানেন, তাহলে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত, ব্যবস্থাও নেবেন আদালত। এখানে সরকারের কিছু বলার কিংবা করার কিছু নেই।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সব সময়ই এ ধরনের কথা বলে। এটা তাদের একটা ছলনা ও কৌশল। তারা সংবিধান, আইন-আদালত ও বিচার মানে না। এটাই বিএনপির চরিত্র। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। ১০ বছর সময় লাগত না। খালেদা জিয়া ও তার আইনজীবীরা এটাতে কালক্ষেপণ করেছেন। খালেদা জিয়া নিজেও মামলায় অনেকবার হাজিরা দেননি। এখনো নানা কৌশলে বিচার বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বিচার কাজ কারও জন্য তো থেমে থাকবে না। খালেদা জিয়া যদি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে না যান, কারাগারের মধ্যে আদালত থাকায় সেখানে যেতে তো অসুবিধা হবে না।’ ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় দল ও সহযোগী সংগঠন নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. হাছান মাহমুদ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন, হাজী আবুল হাসনাত, ওমর ফারুক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, শুকুর মাহমুদ, মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাফিয়া খাতুন, নাজমা আক্তার, হারুনুর রশীদ, মাহমুদা বেগম কৃক, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow