Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩২
ভাঙছে তিস্তা, কাঁদছে মানুষ
ভেসে যাচ্ছে আবাদি জমি বসতভিটা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
ভেসে যাচ্ছে আবাদি জমি বসতভিটা

করালগ্রাসী তিস্তা একে একে গিলে খাচ্ছে আবাদি জমি ও বসতভিটা। ভয়াবহ ভাঙনের শিকার মানুষের কান্নায় তিস্তা পারের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। ‘একবার নোমায়/দুইবার নোমায়। এই বার নিয়া চৌদ্দবার বাড়ি সরবার নাগচি। গত বুধবার আইতে (রাতে) একটা ঘর নদীত ভাসি গেইচে। বাকি ঘর তিনটা খুলচি। এগুলা নিয়া এলা হামরা কোনটে যাই বাহে? এই নদী হামাক ফকির বানাইছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বাগডোরা মধ্যপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আব্বাস উদ্দিন। এই বৃদ্ধ বয়সে এসে ছেলেদের আয়ে গত বছর দেড় লাখ টাকায় ১২ শতাংশ জমি কিনে বাগডোরা মধ্যপাড়ায় বসতভিটা বাঁধেন আব্বাস আলী। তাও বুধবার মধ্যরাতে তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়ে। একটি ঘর ভেসে গেলেও বাকি ঘরগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদে। কিন্তু বসতভিটা বাঁধার জায়গা নেই। ফলে রাস্তার ধারে ফেলে রেখেছেন। ভাঙনের শিকার ওই এলাকার কালাম মিয়া জানান, ঘরটা সরিয়ে রাখার জায়গা নেই। তাই অনিরাপদ হলেও নদীর কিনারে থাকছেন তারা। রাতে স্বামী-স্ত্রী পালা করে পাহারা দেন। বাগডোরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ মৈরন বেগম জানান, ঈদের দিন তাড়াহুড়া করে ঘর দুটি সরিয়ে রাস্তায় নিয়েছেন। একটি ঘর জায়গার অভাবে পাশে ডোবায় ফেলে রেখেছেন।

একটি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। আব্বাস উদ্দিন, কালাম, মৈরনই নন, গত ১৫ দিনে বাগডোরা মধ্যপাড়া গ্রামে প্রায় অর্ধশত পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে রাস্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। জায়গার অভাবে কিছু পরিবার সবকিছু বিকিয়ে দিয়ে কাজের সন্ধানে পরিজনসহ পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। কেউ আবার আত্মীয়ের বাঁশবাগান বা ডোবা উঁচু করে, কেউ দাদন ব্যবসায়ীদের চড়া সুদে ঋণে জমি বন্ধক নিয়ে নতুন স্বপ্ন বাঁধছেন। কেউ রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বাহাদুরপাড়া গ্রামের গরিবুল্লাটারী পাড়াটি গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত রাতে সর্বশেষ মাজেক মিয়ার বসতভিটা বিলীন হয়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপাড়া মসজিদ, ব্রিজ-কালভার্টসহ কয়েক হাজার পরিবার। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আজাহারুল ইসলাম জানান, গত এক মাসে তার ইউনিয়নে ১৩০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে। ভাঙন রোধে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow