Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৩
ভোট করতে ভারত গেল জাকের পার্টি
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণপন্থি ইসলামী দলগুলোকে কোণঠাসা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সুফি ইসলামপন্থি দল জাকের পার্টির একটি প্রতিনিধি দল ভারতে পাঁচ দিনের সফরে এসেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন দলীয় প্রধান পীরজাদা আলহাজ মোস্তফা আমির ফয়সাল। প্রতিনিধি দলটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দল বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। গতকাল দিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে এক মতবিনিময় সভা করে। সেখানে তারা সাফ জানান, এবার তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গতবার তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। আমির ফয়সাল বলেন, ‘বাংলাদেশে কেবল জামায়াতে ইসলামী নয়, হেফাজতে ইসলামকেও পরাস্ত করা উচিত। কেননা এরা জামায়াতের অন্য দিক।’ তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলামের প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের ও মৈত্রীর বার্তা জাতীয় স্তরে প্রচারেরজন্যই এবার জাকের পার্টি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বর দাবি করছে।’ প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিলেশনসের চেয়ারম্যান বিজেপির সংসদ সদস্য বিনয় সহস্রাবুদ্ধের আমন্ত্রণে নৈশভোজে যোগ দেয়। সাক্ষাৎ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের সঙ্গে। ইন্ডিয়া ইসলামিক সেন্টারেও আলোচনা করে। সেখানে ঢাকায় একটি ভারত-বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার খোলার প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব ও জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা চক্রে অংশ নেবে। পরে তারা পুনেতে টাটা-মাহিন্দ্র কারখানা পরিদর্শন করবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা ফিরে যাওয়ার আগে ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে জানান। এদের ভারত সফরের মূল উদ্দেশ্য দক্ষিণপন্থি হেফাজতকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য জনমত তৈরি করা। কেননা এঁরা বলছেন, যদি শেষ পর্যন্ত হেফাজত বাংলাদেশের ক্ষমতার অংশীদার হয়, তাহলে তা হবে ভারতের পক্ষে নিরাপত্তাজনিত ক্ষতি। এঁরা জামায়াতের মতোই আন্তর্জাতিক উগ্র ইসলাম প্রচারের অংশ। নেতারা দাবি করেন, ভারতের নেতৃত্ব এ বিপদ সম্পর্কে সচেতন। তাই তারা এমন কিছু করতে দেবেন না, যাতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দেয়। বিএনপি ও জামায়াত যদি নির্বাচনে না থাকে, তাহলে সেই শূন্যতা হেফাজতকে দিয়ে পূরণ করা উচিত হবে না বলে এঁরা মনে করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow