Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৩
প্রকৃতি
সবুজ ফণীমনসা ডিম দিয়েছে
দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল
সবুজ ফণীমনসা ডিম দিয়েছে

ফণীমনসা সাপ। নামটি শুনলেই মনের মধ্যে একটা ভয় লেগে যায়। আর এই দীর্ঘ লম্বা সবুজ সাপটি নিজ চোখে দেখলে সেই ভয় আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাপের মতো তার ডিমগুলোও বেশ লম্বা। ফণীমনসার ইংরেজি নাম (Green Cat Snake) আর বৈজ্ঞানিক নাম (Boiga cyanea)। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে একটি সবুজ ফণীমনসা সাপ চারটি ডিম দিয়েছে। সোমবার ভোরে ফাউন্ডেশনের একটি খাঁচায় সাপটি ডিম দেয়। জানা যায়, মাস দেড়েক আগে উপজেলার শিশির বাড়ির এলাকার একটি লেবু বাগান থেকে জিপ গাড়িতে করে কলার ছড়ি নিয়ে আসার সময় কলার ছড়ির সঙ্গে ওই সাপটিও চলে আসে। পথিমধ্যে গাড়ির চালক সাপটিকে ফেলতে চাইলে স্থানীয়রা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেয়। পরে সাপটি উদ্ধার করে সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসা হয়।

ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের বন্যপ্রাণী গবেষক অনিমেষ ঘোষ জানান, একটি প্রাপ্তবয়স্ক সবুজ ফণীমনসা সাপ লম্বায় গড়ে ১১০-১৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এরা নিশাচর সাপ। সবুজ ফণীমনসা বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা মূলত টিকটিকি জাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ, ইঁদুর খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। এরা গাছে চড়তে পারদর্শী। প্রজননের ৪০ দির পর এরা ডিম দিয়ে থাকে। ডিম দেখতে লম্বাটে। রং সাদা। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ৭৫ থেকে ৯০ দিন। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বনে এদের বেশি দেখা যায়। সবুজ ফণীমনসাকে অনেক সময় মানুষ বিষাক্ত পিট ভাইপার সাপ মনে করে মেরে ফেলে। বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, সাপটি উদ্ধারের কয়েকদিন পর বনে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নড়াচড়া একটু কম দেখে ধারণা করা হয়েছিল সাপটি অসুস্থ। বাচ্ছা ফোটার পর মা ও বাচ্চাদের লাউয়াছড়া বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow