Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১১
অভিজাত বাড়ির আকর্ষণ
বাহারি বাগানবিলাস
মোস্তফা কাজল
বাহারি বাগানবিলাস

বাগানবিলাস নামের ফুল গাছ অভিজাত বাড়ির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল,  পেরু, আর্জেন্টিনাসহ আরও কয়েকটি দেশকে বাগানবিলাসের আদি নিবাস বলে ভাবা হয়। বাংলাদেশে যখন প্রথম আনা হয়, তখন কেবলমাত্র আমাদের অভিজাত শ্রেণির লোকদের বাড়িতেই শোভা পেত এই ফুল গাছ। পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণপ্রিয় আমাদের তখনকার ওই অভিজাত শ্রেণি অন্যদের কাছে এই ফুলকে পরিচয় করিয়ে দিতেন ‘বোগেনভিলা’ নামে। ‘বোগেনভিলা’ থেকে ‘বাগানবিলাস’। নামের এই বিবর্তনের মূল কৃতিত্ব রবীন্দ্রনাথের। সেসময়ের কোনো এক অভিজাত, বিলাসী লোকের বাড়ির বাগানে রবি ঠাকুর প্রথম দেখেন এই ফুল গাছ। অপূর্ব এই ফুলের রং ও রূপে কবি মুগ্ধ হন। তিনি কৌতূহলে এর নাম জানতে চান। অপরূপ সুন্দর এই ফুলের বিদেশি নাম শুনে কবি কিছুটা নাখোশ হন। তখন তিনি এর নাম দেন ‘বাগানবিলাস’। বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু আর মানুষের সঙ্গে বাগানবিলাস এমনভাবে একাকার হয়ে  গেছে যাতে এই ফুলকে দেখলে কোনো কালে তা বিদেশি ফুল ছিল বা দেশি ফুল ভিন্ন অন্য কিছু ছিল তেমনটা আর মনে হয় না।

লম্বায় এই গাছ  ১-১২ মিটার পর্যন্ত হয়। বাগানবিলাস কাঁটাযুক্ত গাছ। কাঁটাগুলো তীক্ষ্ন। বাগানবিলাসের কদর মূলত এর ফুলের কারণেই। ফুলগুলোর একটা থেকে অন্যটির দূরত্ব খুব কম। অর্থাৎ এরা পরস্পর খুব কাছাকাছি থাকে। প্রতিটি ফুলে তিনটি পাপড়ি তিন দিক  থেকে একে অপরকে ঘিরে থাকে। ফলে আলাদাভাবে ফুলগুলোকে অনেকটা কাঁঠাল পাতা দিয়ে বানানো ঠোঙার মতো মনে হয়। এর ভিতরে থাকে পুংকেশর, স্ত্রীকেশর ইত্যাদি। পৃথিবীব্যাপী বাগানবিলাসের ১৮টি পর্যন্ত প্রজাতির সন্ধান মেলে। বাংলাদেশে আছে এর তিনটি প্রজাতি। লাল, হলুদ আর সাদা। আমাদের দেশে লাল বাগানবিলাসের পাশাপাশি সাদা আর হলুদ বাগান বিলাসও চোখে পড়ে। আমাদের নাগরিক জীবনে এক ঝলক স্নিগ্ধতার পরশ বুলিয়ে দিতে বাগানবিলাসের জুড়ি  নেই। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা বাগানবিলাসের রয়েছে এমন আরও বহু বিচিত্র রঙ। ধরুন, আপনি রাজধানীর মগবাজার মোড় থেকে রিকশায় করে যাচ্ছেন বেইলি  রোডের দিকে। গ্রীষ্মের রাস্তায় অসহ্য জ্যামে আপনি স্বভাবতই বিরক্ত। হঠাৎই তাকালেন আপনার ডান দিকে। আপনার চোখ চলে যাবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে একটু ভিতরে। ওখান  থেকে আরও ভিতরে দোতলার ব্যালকোনিতে। শুধু দেখা যাবে লাল লাল বাগানবিলাসের ঝোঁপ। মুহূর্তেই সব বিরক্তি কর্পূরের মতন উড়ে গিয়ে আপনার মন ভরে উঠবে আশ্চর্য প্রশান্তিতে। এছাড়া রমনা পার্কেও দেখা মিলবে এ ফুল গাছের। প্রকৃতিবিদগণ বাগানবিলাসকে ‘অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট’ বা ‘শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। এর কোনো ভেষজ গুণের কথা আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। লাল রঙের বাগানবিলাসই আমাদের দেশে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। শহরে তো  দেখতে পাবেনই, আবার শহর থেকে দূরে কোনো গ্রামীণ জনপদে বেড়াতে গেলে বাগানবিলাস দেখে খুব অবাক হবেন না যেন। বরং শহরের ইট-কাঠ-পাথরের জীবন  থেকে গ্রামের মাটির সোঁদা গন্ধময় জীবনেই বাগানবিলাস যেন আরও অনেক বেশি সপ্রতিভ। অবশ্য  সেখানে কেউ একে ‘বাগানবিলাস’ বলে চিনে না। বাগানবিলাস সেখানে বেশি পরিচিত ‘গেইট ফুল’ নামে। বাড়ির গেইট বা সদর দরজায় বেশি মানানসই বলেই হয়তো এই নামেই ডাকে। এর পাপড়িগুলো খুব পাতলা আর রঙিন কাগজের মতো দেখতে বলে কোথাও  কোথাও তা ‘কাগজি ফুল’ নামেও পরিচিত। যেখানে যে নামেই ডাকা হোক না কেন নিসর্গপ্রেমীদের কাছে এর আবেদন সর্বজনীন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow