Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৮
যোগাযোগে নতুন দিগন্ত
চট্টগ্রাম নগরীতে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর আসতে অটোরিকশায় আগে সময় লাগত ২০ থেকে ২৫ মিনিট। কিন্তু ‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার’ নির্মাণের পর লাগছে মাত্র পাঁচ মিনিট। এভাবেই চট্টগ্রামের এই বৃহত্তম ফ্লাইওভারের সুফল পাচ্ছেন যাত্রীরা।

নগরে যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ খ্যাত কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটারের প্রধান সড়ক। এ সড়কের মুরাদপুর থেকে  লালখান বাজার অংশে চালু হওয়া ‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার’ উন্মোচন করেছে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়া দিগন্ত। কমছে যানজট, স্বস্তি মিলছে যাত্রীদের। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্য পরিবহন করা যানবাহনগুলো দ্রুত যাতায়াত করতে পারছে। এ কারণে ব্যবসায়ীদের অর্থ ও সময় দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। গত বছর ১৬ জুন প্রাথমিকভাবে এই উড়ালসড়কের এক পাশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই বছরেরই ১ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গরূপে খুলে দেওয়া হয় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। তবে জিইসি মোড়ের র‌্যাম চালু না হওয়া, ফ্লাইওভারে মাঝে মাঝে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হওয়া ও বিটুমিন ওঠে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারে প্রয়োজনীয় উচ্চতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায়   ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের অনেক অংশ খানাখন্দে ভরপুর। এসব খানাখন্দ নিয়মিত মেরামত করা হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও কমবে। চউকের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সড়ক হলো পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট। এই সড়কে বহদ্দারহাট-মুরাদপুর ফ্লাইওভার এবং  মুরাদপুর-লালখান বাজার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এই দুটির কারণে যানজট অনেকাংশে কমে এসেছে। এখন আর এই প্রধান সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে মানুষ আটকে থাকে না। চট্টগ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। আগামীতে বাণিজ্যিক রাজধানীতে আর যানজট থাকবে না।’ চউক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নামে ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চার লেনের ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের ফ্লাইওভারটি ৬৯৬ কোটি টাকায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে মূল অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হয় ৪৫০ কোটি টাকা এবং বাকি ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হয় দুটি র‌্যাম্প ও লুপ তৈরিতে। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে হয়ে লালখান বাজারে এসে শেষ হয়। জানা যায়, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ার আগে লালখান বাজার, ওয়াসা মোড়, জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেইট হয়ে মুরাদপুর-বহদ্দারহাট পর্যন্ত যানজট ছিল নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন সকালে অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু এবং শেষ হওয়ার সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানজট লেগে থাকত। এ ছাড়া নগরের প্রধান এই সড়ক দিয়েই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে যেতে হয়। অনেক সময় যানজটে বিমানের যাত্রীর ফ্লাইট মিস এবং বন্দরের পণ্য পরিবহন করা যানবাহন যানজটে আটকা পড়ত। কিন্তু এ ফ্লাইওভারের কারণে এখন এই চিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। বিমানের যাত্রী এবং দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন ফ্লাইওভার ব্যবহার করে যানজটমুক্তভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। জানা যায়, মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারে ষোলশহর ২ নম্বর গেইট মোড়ে বায়েজিদ বোস্তামীর দিকে লুপ করা হয়েছে। এই লুপের মাধ্যমে বায়েজিদ দিক থেকে জিইসি মোড়ের দিকে আসা-যাওয়া করা যাবে। এ ছাড়া জিইসি মোড়ে বসছে দুটি র‌্যাম্প। এই দুটি র‌্যাম্পের মাধ্যমে জিইসি থেকে মুরাদপুরের দিকে যাওয়া এবং মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড়ে নামার সুযোগ আছে। ইতিমধ্যে বায়েজিদ বোস্তামী রোড থেকে লুপ ব্যবহার করে ফ্লাইওভারে ওঠার রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow