Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৯
আগ্রাসী ভাঙনে সর্বস্বান্ত মানুষ
আশ্রয়হীনদের হাহাকার
প্রতিদিন ডেস্ক
আগ্রাসী ভাঙনে সর্বস্বান্ত মানুষ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় থামছে না ভাঙন। গতকাল তোলা ছবি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর পাড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ হারাচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা। সব হারিয়ে তারা আশ্রয় নিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অবস্থান করছেন খোলা আকাশের নিচে। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

শরীয়তপুর : অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকার বাঁশতলা নামক স্থানে এক সপ্তাহ বিরতির পর নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বুধবার দুপুর থেকে ২০০ বসতঘর সরিয়ে নিয়েছেন ভাঙন কবলিতরা। ৪০টি পাকা ঘর কয়েক হাজার গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিতরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহে সরকারি-বেসরকারি ভবন, মূলফত্গঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহু লোকের সাজানো গোছানো ঘরবাড়ি ভেঙেছে। সোমবার রাতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনে জরুরি বিভাগ ও বহিঃবিভাগ চালু রাখা হলেও হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন না। হাসপাতালের আরও ১১টি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে আরও একটি ভবনে।

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ৩৯ কিলোমিটার তীর রয়েছে। এর মধ্যে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে নড়িয়ার মোক্তারেরচর, কেদারপুর, ঘড়িসার ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভা, জাজিরার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নে। এসব এলাকায় ভাঙনে এবার ৮ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। গত পাঁচ বছরে গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। এই এলাকার মধ্যে নড়িয়ার সুরেশ্বর এলাকায় ১ কিলোমিটার লম্বা বাঁধ রয়েছে।

ভাঙন কবলিত অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা খাবার চাই না, আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। কেদারপুর গ্রামের চোখের জল আর সব হারানোর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুফিয়া বেগম জানান, ২০ শতক জায়গার ওপর বড় বাড়ি ছিল। মূলফত্গঞ্জ বাজারে দোকান ছিল স্বামী সোহেল মিয়ার। সবই কেড়ে নিয়েছে পদ্মা। দুই মাসের ব্যবধানে ভালো অবস্থান থেকে আজ আমরা ঠিকানাহীন হয়ে পড়েছি। নড়িয়া বাঁশতলা এলাকার মায়া বেগম বলেন, সর্বনাশা পদ্মা আমাদের সবাইকে এখন এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা সবই চলে গেছে পদ্মায়। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের থাকারও জায়গা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এ ভাঙন। এরই মধ্যে ভাঙনে বিপুল আবাদি জমি, আমবাগান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা-হাটবাজারসহ তিন বছর আগে নির্মিত হাকিমপুর হতে দেবিনগর পর্যন্ত সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বাঁধ। বর্তমানে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার এবং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে পদ্মার ভাঙন। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এক সপ্তাহে ৩০০ বসতঘর ও ৪টি মাছের আড়ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে চরাঞ্চলের লোকজন প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে আতঙ্কের মাঝে বসবাস করছেন। গৃহহারা এ মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চরাঞ্চলের হাবিব গাজী, সৈয়দ চৌকিদার, রহুল আমি মেম্বার ও হুমায়ন প্রধানিয়ার মাছের আড়তসহ বেশ কয়েকটি দোকান মেঘনার ভাঙনে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। কোথাও জায়গা না পেয়ে বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow