Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:১৩

দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড

সংসদে সড়ক বিল উত্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড

অবহেলা বা বেপরোয়া মোটরযান চালনার কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বিল’ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাণহানির দায়ে অভিযুক্ত ড্রাইভার ও কন্ডাক্টরের অপরাধ জামিনযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত অন্যান্য অপরাধ আপস-মীমাংসার জন্য পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের ২২তম অধিবেশনের গতকালের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনের ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা নিহত হলে এ-সংক্রান্ত অপরাধ দণ্ডবিধির-১৮৬০-এর এ-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে দণ্ডবিধির ৩০৪বি ধারায় যা-ই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

বিলের ১১৭ ধারায় অপরাধের আমল যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, পেনাল কোডের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এ ভিন্নতর কিছু না থাকলে, সাব ইন্সপেক্টর বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা আদালতে অবহিত করলে এ আইনের অধীনে সব অপরাধ আমলযোগ্য হবে। তবে আইনের ৮৪ (মোটরযানের কারিগরি ত্রুটি), ৯৮ (ওভারলোডিং, ওভারটেকিং বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো) ও ১০৫ (প্রাণহানিজনিত অপরাধ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধসমূহ ছাড়া অন্য সব অপরাধ জামিনযোগ্য হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে এ আইনের ৬৬ (ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো), ৭২ (রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালালে), ৭৫ মোটরযানের ফিটনেস না থাকলে), ৮৭ মোটরযানের গতি অনিয়ন্ত্রিত হলে), ৮৯ (ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে) এবং ৯২ (নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে গাড়ি চালালে) ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহ আপস-মীমাংসা করতে পারবেন। এ ছাড়া অপরাধসমূহ নির্ধারিত টার্মিনাল চার্জ ছাড়া পাবলিক প্লেসে মোটরযান চলাচলের জন্য অবৈধভাবে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না, করলে পেনাল কোডের অধীন চাঁদাবাজির অপরাধ বলে গণ্য হবে।

বিলে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহনে কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। শ্রম আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চুক্তি ছাড়া কাউকে কন্ডাক্টর নিয়োগ করতে পারবে না। গণপরিবহন পরিচালনার জন্য সরকারি গেজেট দ্বারা প্রতিটি মহানগর, বিভাগ এবং জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক প্রতিনিধি থাকবে। কমিটি রুট পারমিট প্রদান করবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে আদালতের নির্দেশে মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স, ১৮৮৩ বাতিল হয়ে গেলে আবশ্যকতা বিবেচনায় ২০১৩ সালের ৭ নম্বর আইন দ্বারা এটি কার্যকর রাখা হয়। পরে সময়ের চাহিদা ও নিরাপদ সড়ক পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ প্রণীত হয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আইনে ১৪টি অধ্যায়ে ১২৬ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০১৮ পাস করেছে সংসদ।


আপনার মন্তব্য