Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৯
ভাড়াটিয়ার দাওয়াত
মির্জা মেহেদী তমাল
ভাড়াটিয়ার দাওয়াত

ভাড়াটিয়ার দাওয়াত গ্রহণ করে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হতে হবে ভাবতেও পারেনি বাড়িওয়ালার পরিবার। বাড়িওয়ালার পুরো পরিবারকে রাতের খাবারের দাওয়াত দিয়ে আপ্যায়ন করা ভাড়াটিয়ার রাতের খাবারে ছিল পোলাও, রোস্ট, দইসহ নানা পদ। খাবার খেয়ে একের পর এক জ্ঞান হারান বাড়িওয়ালা পরিবারের নয় সদস্য। পরে বাড়িওয়ালার ঘরের সর্বস্ব লুট করে পালায় সেই ভাড়াটিয়া। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার আলী আহমেদের বাড়ির। এলাকার মানুষ এখন ওই ভাড়াটিয়ার নাম দিয়েছেন ‘ভয়ঙ্কর ভাড়াটিয়া’। ডেমরায় ভাড়াটিয়ার দাওয়াত খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন বাড়িওয়ালা বৃদ্ধ দম্পতি। ভাড়াটে সেজে বাড়িতে ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যায় তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিনিয়ত প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে। কয়েক মাস ধরে নতুন এক ধরনের চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ চক্রটি বাড়ি ভাড়া হবে বা টু-লেট দেখে ভাড়া নেওয়ার নাম করে মালিকের বাড়ি যায়। এরপর কৌশলে বাড়িওয়ালাসহ সবাইকে দাওয়াত দিয়ে খাইয়ে অজ্ঞান করে বাড়ির দামি জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা লুট করে। অনেক সময় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে ভাব জমিয়েও এমন কাজ করে চক্রটি।

ডেমরায় নিহত দম্পতির ছেলে আমিনুল ইসলাম হাসপাতালে জানান, তারা দুই ভাইবোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি তীর কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। ডেমরায় তার বাবা নতুন বাড়ি করেছেন। তিনি জানান, বাসায় বাবা-মা দুজনই ছিলেন। খবর পেয়ে অফিস থেকে বাসায় ছুটে যান। প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বিকালের দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন নারী বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাদের বাসায় ঢোকেন। এ সময় কোনো কিছুর মাধ্যমে বাবা-মাকে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা টাকা-পয়সা ও সোনার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। তিনি জানান, খবর পেয়ে ছুটে এসে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মায়ের কক্ষে ঢুকে দেখেন বাবা-মা মেঝেতে পড়ে আছেন। এ সময় পাশের বাসার ভাড়াটিয়াদের সহযোগিতায় বাবা-মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক মাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ৮টার দিকে বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এমন একটি চক্র পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে সম্প্রতি। এ চক্রটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ একই পরিবারের নয়জনকে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। গ্রেফতারের সময় ভাড়াটিয়া এই দম্পতির কাছ থেকে সোনার অলঙ্কার, ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।

প্রতারক এই চক্রকে রাজধানী ঢাকার মান্ডা এলাকার জালাল মিয়ার ষষ্ঠ তলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হলো বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শিন্নিরচর এলাকার কবির হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম। প্রাথমিকভাবে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, ভাড়াটিয়া সেজে বাড়ির মালিককে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নেওয়াই তাদের পেশা।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার ১৫ দিন পর প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর দক্ষিণ মান্ডার জালালের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সোনার অলঙ্কার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও ৬ পাতা অচেতনকারী ওষুধ উদ্ধার করা হয়।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow