Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৭
কবিতার উচ্চারণে স্বননের ৩৩
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
কবিতার উচ্চারণে স্বননের ৩৩

আবৃত্তির দৃপ্ত উচ্চারণে দেখতে দেখতে ৩৩টি বছর কাটিয়ে দিয়েছে আবৃত্তির সংগঠন স্বনন। ৩৩ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানেও ছিল আবৃত্তির সেই নান্দনিকতা। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘তন্ময় তটিনীর তীরে’ শিরোনামের বর্ষপূর্তির এই মনোজ্ঞ আসর। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, কথামালা, নাচ, গান ও কবিতার দৃপ্ত উচ্চারণে সাজানো ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাচিকশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

ঢাকের বাদ্যির তালে তালে বিশেষ অতিথিদ্বয় ও আবৃত্তিশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আনিসুজ্জামান। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্বননের শিল্পীরা। এরপর রবীন্দ্রনাথের গান ‘আলোকের ঝর্ণাধারা ধুইয়ে দাও’-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন এগনেস র‌্যাচেল প্যারিস প্রিয়াংকা ও তার দল।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সুন্দর করে কথা বলাও একটা শিল্প। আর সুন্দর করে কবিতা পড়ার মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্পীরা মানুষকে নির্মল বিনোদন দান করেন। কবিতার মাধ্যমে অন্যকে বিনোদিত করার কাজটা আবৃত্তিশিল্পীরাই করে যাচ্ছেন। সেলিনা হোসেন বলেন, সাংস্কৃতিক ব্যর্থতার কারণেই জঙ্গি উত্থান হয়েছে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম কঠিন অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আবৃত্তিশিল্পীরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দূর করছে। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, একসময় কবি ও আবৃত্তিকারদের মধ্যে একটা দূরত্ব ছিল। আবৃত্তিশিল্পীরা বই পড়েই আবৃত্তি করতেন। কিন্তু এখন আবৃত্তিশিল্পের প্রসারে ভালো ভালো কবিতা লিখে কবিরাও এগিয়ে এসেছেন। আবৃত্তিশিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো দিক। আলোচনার পর বৃন্দ, দ্বৈত ও একক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সমগ্র অনুষ্ঠানকে ছন্দময় করে তোলেন বাচিকশিল্পীরা। কাজী নজরুল ইসলামের ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য’-এর বৃন্দ আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের আসর। এরপর তারা দলীয়ভাবে আরও পরিবেশন করেন সুকুমার রায়ের ‘শব্দকল্পদ্রুম’ এবং রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘ফসলের কাফন’ ও ‘রাস্তার কবিতা’। দ্বৈত আবৃত্তি পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ থেকে পাঠ করেন তরিকুল ও ত্রপা চক্রবর্তী। এতে একক আবৃত্তি করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সৈয়দ হাসান ইমাম, বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সোহরাব হোসাইন এবং বাচিকশিল্পী ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow