Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৮
বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের
বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত বিএনপি নেতৃত্বের কাছে এই প্রশ্নসহ তিনটি প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন আাাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অনলাইন স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি, মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বারবার একই প্রশ্ন করছি বিএনপির নেতৃত্বের কাছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, সেই খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, কেন এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তের আখরে রচিত সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে? এই প্রশ্নের জবাব বিএনপি আজও দেয়নি। আমি আবারও সেই প্রশ্নের জবাব চাইছি।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মেজর ডালিমের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিয়াউর রহমান মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওয়েল ডান মেজর ডালিম, কনগ্র্যাচুলেশন। এর অর্থটা কী? এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তিনিও ছিলেন।’ এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে খুনিদের আজকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের কূটনৈতিক প্রয়াস, এমনকি মামলা পর্যন্ত করতে হচ্ছে, সেই খুনিদের নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়ে গিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিচার হবে না এই মর্মে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এবং এই খুনিদের বিচারকাজ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে পঞ্চম সংশোধনীতে আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন কে? জিয়াউর রহমান।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং হত্যাকারীদের অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে ছয়জন খুনি বিদেশে আছেন। এদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, ডালিম, মাজেদ, মোসলেম, রশীদ এই ছয়জন বিদেশে আছেন। এই ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন খুনি রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও আমাদের সহযোগিতা করছে। সেখানে একটা মামলা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। তেমনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিটিশন দেওয়ার লক্ষ্যে এখানে স্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হচ্ছে। নূর চৌধুরীর ব্যাপারে কানাডার একটি আইন আছে, সেটি হলো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান সে দেশের আইনে নেই। এ কারণে আইনটিকে শিথিল করে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কানাডায় একটি মামলাও বাংলাদেশ সরকার করেছে এবং সেখানে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow