Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৩
প্রকৃতি
গ্রীষ্মকালের পাখি সবুজাভ সুমচা
আলম শাইন
গ্রীষ্মকালের পাখি সবুজাভ সুমচা

পাখির বাংলা নাম, ‘সবুজাভ সুমচা’। ইংরেজি নাম, ‘হুডেড পিট্টা (Hooded Pitta)’। বৈজ্ঞানিক নাম, Pitta Sordida। অঞ্চলভেদে এরা নীলপাখি বা হালতি পাখি নামে পরিচিত। দেশের বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট এলাকায় অল্প বিস্তর এ পাখি নজরে পড়ে। মাঝে মধ্যে সুন্দরবনের আশপাশে বড়দলে নজরে পড়ে। অন্যত্র খুব একটা নজরে পড়ে না। তবে পাখি বিশারদরা বলছেন, লাউয়াছড়ার জঙ্গলে এদের বিস্তৃৃতি রয়েছে। মূলত এরা হিমালয় অঞ্চলের পাখি। গ্রীষ্মে পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশে আসে। থাকে চার-পাঁচ মাস। এ পাখি এ দেশে এসেই ডিম-বাচ্চা ফুটায়। সেমতে জন্মসূত্রে এরা এ দেশেরই বাসিন্দা। অন্যদিকে প্রজনন পরিবেশ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়ায় এরা আমাদের দেশে এখন আর আগের মতো আসছে না। এ পাখির গলা ভারি মিষ্টি। ‘হুই-হুই’ সুরে ডাকে। সুনসান পরিবেশ পেলে গলা ছেড়ে শিস দেয়। খানিকটা দূর থেকেও শিস শোনা যায়। লোকজন এড়িয়ে চলে এরা সবসময়। মাঠ-প্রান্তরের চেয়ে জঙ্গলের ভিতর ফাঁকাস্থানে বিচরণ করে বেশি। এদের অন্যতম স্বভাব, ঝরাপাতা উল্টিয়ে খাবার খোঁজা। প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য লম্বায় ১৬-১৯ সেন্টিমিটার। মাথা পাটকিলে। ঘাড়ের চারপাশ, গলা এবং বুকের ওপরের অংশ কালো। বুকের কালো অংশের নিচ দিকে সবুজ। তলপেট থেকে লেজের নিচ পর্যন্ত টকটকে লাল। পিঠ জলপাই রঙের। ডানায় নীল ছোপ। ডানার প্রান্তে সামান্য কালো টান। উড়লে সাদা ছোপ নজরে পড়ে। লেজ একেবারেই খাটো। লেজের অগ্রভাগ কালচে। ঠোঁট কালো। পায়ের আঙ্গুল ছাই বর্ণের। এদের প্রধান খাবার : ভূমিজ কীটপতঙ্গ। প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে। বাসা বাঁধে ভূমির কাছাকাছি ঝোপজঙ্গলে। বাসা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো লতা-পাতা। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৬ দিন। জন্মের সপ্তাহ দুয়েক পরে শাবক উড়তে শেখে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow