Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫০
স্বস্তি মিলছে ফ্লাইওভার- ইউলুপে
শিমুল মাহমুদ ও মানিক মুনতাসির
স্বস্তি মিলছে ফ্লাইওভার- ইউলুপে

গত কয়েক বছরে রাজধানীতে কয়েকটি ফ্লাইওভার, ওভারপাস এবং ইউলুপের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় এগুলোর সুফল পেতে শুরু করেছে নগরবাসী। বিভিন্ন সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যানজটের দীর্ঘ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মগবাজার, মালিবাগ, বনানী, কুড়িলসহ বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে গাড়িজট কমেছে। মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভার ও রামপুরা-বাড্ডায় দুটি ইউলুপ নির্মাণের কারণে উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াতের ভ্রমণ সময় কমে গেছে। মিরপুর-ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের কারণে বদলে গেছে মিরপুর-পল্লবী এলাকার লাখো মানুষের ভোগান্তির যাতায়াত। এখন মাত্র ৩০ মিনিটেই মিরপুর থেকে উত্তরায় যাতায়াত করা যাচ্ছে। কুড়িল ফ্লাইওভারের কারণে এই এলাকার স্থবির পথযাত্রায় দারুণ গতি এসেছে। সবমিলিয়ে গত ১০ বছরে নগরীর কিছু অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে চলমান মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরানো গেলে রাজধানীর জীবনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যের হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, রাজধানীতে দৃশ্যত কতগুলো অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। আর কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান। এগুলোর পুরোপুরি সুফল পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকাকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শহরে পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। রাজধানীর নিত্য যাত্রীরা বলেছেন, অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে ঢাকার যানজট দৃশত কমেছে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার, যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, বনানী ওভারপাস, কুড়িল জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, খিলগাঁও ফ্লাইওভারসহ যেসব ফ্লাইওভারের নির্মাণ শেষ হয়েছে তার সুফল ইতিমধ্যে ভোগ করছে ঢাকাবাসী। এতে চলাচলে কিছুটা স্বস্তি এসেছে শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে। যা শহরবাসীর সময়ের দূরত্বও কমিয়েছে। এ ছাড়া রামপুরা, বাড্ডার দুই ইউলুপও স্বস্তি এনেছে শহরবাসীর চলাচলে। এই রুটে যানজট কমেছে। এ ছাড়া রাজধানীর বনানী, গুলশান, মহাখালী, ধানমন্ডি মোহাম্মদপুর, পল্টন, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটও মেরামত করা হয়েছে সম্প্রতি। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কসহ মহল্লার ভিতরের ছোট ছোট রাস্তার ফুটপাথেও বসেছে নতুন টাইলস। এমনকি প্রধান প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাথে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্যও বিশেষ ধরনের টাইলস বসানো হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেট কার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যানজট আবারও প্রকট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর ভিআইপি সড়ক প্রেস ক্লাব-ফার্মগেট থেকে উত্তরা, বিশ্বরোড থেকে মালিবাগ, নিউমার্কেট, মতিঝিল-চিটাগাং রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট বেড়েছে। এর মধ্যে মালিবাগ-কাকরাইল রোডে ফ্লাইওভারের নিচের অংশে রীতিমতো গাড়ি পার্কিংয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে এ এলাকা ফ্লাইওভারের পুরোপুরি সুফল পাচ্ছে না শহরবাসী। এখানে দিনরাত যানজট লেগে থাকছে। শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট এলাকায়ও যানজট কমেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে মগবাজার-মৌচাক, যাত্রাবাড়ী এবং কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকায়। এর সুবাদে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগছে শান্তিনগর থেকে রামপুরা আসতে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ পূর্বাঞ্চলগামী মানুষকে যাত্রবাড়ীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে না। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে মুহূর্তেই চলে যাচ্ছেন চিটাগাং রোড পর্যন্ত। বনানী থেকে এয়ারপোর্ট যেতে যেখানে সময় লাগত এক ঘণ্টা। সেখানে এখন ৫ থেকে ৭ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে এ পথ। তবে এয়ারপোর্ট থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সার্ভিস লাইনের চলমান কাজ জনভোগান্তি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করছে। মানুষের জীবনকে সহজ করেছে এসব দৃশ্যমান উন্নয়ন। সময় বাঁচিয়েছে অনেক। এর সঙ্গে বাড়তি সুবিধা যোগ করেছে বনানী রেলগেটের ওপর নির্মিত ওভারপাসটি। এটির কারণে আর রেলগেটের সিগন্যালে বসে থাকতে হয় না। এমনকি রেলগেটের কাছে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া কুড়িল ফ্লাইওভার বা এয়ারপোর্ট-মিরপুর জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে বা বাসে চড়ে গেলে রাতের পরিবেশ দেখে মন জুড়িয়ে যায়। বিশেষ করে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার গাছগাছালি আর কুড়িল চৌরাস্তার মাঝের ছোট লেকে চোখ আটকে যায়। নিয়নের আলোয় সবুজকে আরও গাঢ় সবুজ মনে হয়। দিনের বেলায়ও বেশ মনোমুগ্ধকর এখানকার পরিবেশ। দিনে অথবা পড়ন্ত বিকালে অনেকেই এখানে বেড়াতেও আসছেন। শুধু তাই নয়, রাতেও চোখে পড়ে উত্সুক জনতা। কুড়িল বিশ্বরোডের চেহারাই যেন পাল্টে গেছে আজকাল। আগে গাজীপুর, টঙ্গী বা এয়ারপোর্ট এলাকায় আসা রামপুরা বা যাত্রাবাড়ীর বাসগুলো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত। এমনকি একটি ট্রেন যাওয়ার পর আরেকটির জন্য অপেক্ষা করতে হতো একই সিগন্যালে। গাড়ির দীর্ঘ সারি খিলক্ষেত এলাকাও ছাড়িয়ে পড়ত। অথচ বর্তমানে কুড়িল রেলগেটটি পারাপারের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেননা একমাত্র পথচারী ছাড়া কোনো যানবাহন পারাপারের প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের সঙ্গে শাহজাহানপুর পর্যন্ত নতুন লুপ নির্মাণের কারণে পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সহজ হয়েছে। এর ফলে ফ্লাইওভারটির কার্যকারিতা আরও অনেক বেড়ে গেছে। একইভাবে মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত একটি লুপ করা গেলে বনানী থেকে কাকরাইল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপিত হবে। নগরীর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো সংস্কার করে, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের মাধ্যমে প্রশস্ত করা হয়েছে। ফুটপাথও ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। উত্তরায় সেক্টরের ভিতরের রাস্তাগুলো অনেক দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। এদিকে হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি নগরবাসীর বিনোদন চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঝিলের নৌপথে এবং বৃত্তাকার সড়ক পথে যাতায়াতের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজধানীর পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাতিরঝিল প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে, কাওরানবাজার-মগবাজার এলাকা থেকে গুলশান কিংবা রামপুরা-বাড্ডা-নতুন বাজার যাতায়াত স্বাচ্ছন্দ্যের হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow