Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৯
থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা পাচারে ফের সক্রিয় দালালচক্র
প্রথমে টেকনাফের কেরুনতলী ঘাট দিয়ে নাফ নদ পার হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। পরে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ দুপুরের দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পয়েন্টে স্থলপথ দিয়েই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

শুষ্ক মৌসুম চলে আসায় সমুদ্রপথ এখন বেশ শান্ত। এই সুযোগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাগরপথে মানব পাচারকারী চক্রগুলো। পাচারকারীদের এবারের টার্গেট মিয়নামার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড পৌঁছে দেওয়ার নাম করে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয়রত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে চক্রগুলো কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কোস্টগার্ডের পূর্বজোন ও বিজিবি অভিযান চালিয়ে দুই দিনে পাচারের শিকার ৪৭ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ছয় পাচারকারীকে। অনেক রোহিঙ্গার আত্মীয়স্বজন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে রয়েছে। তাই কম খরচে সাগরপথে সহজে প্রবাসী স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। তবে পাচারকারী চক্রের প্রথম থেকে তৃতীয় ধাপের কোনো তথ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসে না। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ ধাপের তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকারী ও পাচারের শিকার লোকজনকে গ্রেফতার ও উদ্ধার করা যায় বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড পূর্বজোনের কমান্ডিং অফিসার লে. কমান্ডার ফয়েজুল ইসলাম মণ্ডল। গত ৬ নভেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উপকূল থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। থাইল্যান্ড নেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে দুই দিন ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ঘোরানোর পর ‘থাইল্যান্ডের তীরে পৌঁছেছি’ বলে তাদের টেকনাফের নির্জন উপকূলে নামিয়ে দেওয়া হয়। ১৪ জনের মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিল। জানা গেছে, ২ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতিজনকে থাইল্যান্ডে পাঠানোর মৌখিক চুক্তি করে পাচারকারীরা। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী ও শিশু নিখোঁজের কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এর সংখ্যা এখনো আশঙ্কাজনক না হলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেন, প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকায় মানব পাচার বন্ধ রয়েছে। আবারও যাতে মানব পাচারকারীরা সক্রিয় হতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা তৎপর রয়েছে। সাগরপথে মানব পাচার বন্ধ রয়েছে। দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow