Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:০৬
উসকানি দিতেই নয়া পল্টনে হামলা : পুলিশ
নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার হেলমেটধারী সেই যুবকসহ ছাত্রদলের ছয় নেতাকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন— মো. আশরাফুল ইসলাম (রবিন), মো. সোহাগ ভূঁইয়া, মো. আব্বাস আলী, মো. এইচ কে হোসেন আলী, মো. মাহাবুবুুল আলম ও জাকির হোসেন উজ্জ্বল। এর     আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এ সময় আসামির আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই পল্টন থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।

উসকানি দিতেই নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলাটি ছিল উসকানিমূলক। রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সোমবার বিকালে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী। ১৪ নভেম্বর বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের সময় কার কী ভূমিকা ছিল এর স্থিরচিত্র মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়। গ্রেফতার নেতা-কর্মীরা হলেন— ঢাকা উত্তরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এইচ কে হোসেন আলী, শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্বাস আলী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহাবুবুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, তারা (বিএনপি) পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আগে থেকে বিএনপি অফিসে লাঠি মজুদ করে রাখা ছিল এবং নেতা-কর্মীদের হেলমেট পরে আসতে বলা হয়েছিল। মূলত তারা চেয়েছিল পুলিশের ওপর হামলার পর পুলিশও নির্বিচারে অভিযান চালাবে। নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আর সেই ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মহলে দেখিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেদিন পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি। নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় পুলিশ পেশাদারি এবং অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু সেদিনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সক্ষমতা ছিল, রয়েছে। পুলিশ চাইলে পাঁচ-সাত মিনিটে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে পারত। ঘটনার দিন সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত থাকলেও পুলিশ শুধু সংঘর্ষে জড়িত ও নির্দেশদাতাদের পৃথক তিনটি মামলায় আসামি করেছে। তফসিলের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে পুলিশ— বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, যেখানে ফৌজদারি অপরাধ হবে সেখানেই পুলিশ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। আর ফৌজদারি অপরাধ করলে গ্রেফতার করা যাবে না এমন নির্দেশনা কোথাও নেই। মোহাম্মদপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার বিষয়ে মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এখন আমার কাছে সেটির কোনো আপডেট নেই।’ ৫ আগস্ট সায়েন্স ল্যাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা কেন গ্রেফতার হচ্ছে না— এর উত্তরে তিনি বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। যেখানেই ফৌজদারি অপরাধ ঘটবে সেখানে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow