Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৬
ভয়ঙ্কর দালাল
মির্জা মেহেদী তমাল
ভয়ঙ্কর দালাল

কমলের প্রতারণায় প্রবাসী বাদশার মৃত্যু! সংসারের অনটন দূর করার আশায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচরের বাদশা মিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে অবৈধ থেকে  বৈধ হওয়া এবং ছেলেকে বিদেশ নিতে ১৭ হাজার রিংগিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশি দালাল কমল চন্দ্র দাসকে। টাকা নিয়েও বৈধতার ব্যবস্থা করেননি কমল চন্দ্র দাস। ছেলে সজীব খানকেও মালয়েশিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করেননি। পুরো টাকাই মেরে দেন দালাল কমল চন্দ্র দাস। প্রবাসে উপার্জন করা এবং গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির প্রায় চার লাখ টাকা হারিয়ে পাগলের মতো ছোটেন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু কমলের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে পারেননি। সেই টাকার শোকে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কনস্ট্রাকশন ফার্মে কর্মরত অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বাদশা মিয়া। একই গ্রামের দালাল কমল চন্দ্র দাসের কাছে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে মারা যান বাদশা মিয়া। সেই টাকার জন্য তিনি অনেক ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু টাকা উদ্ধার করতে পারেননি। কমল বর্তমানে বাংলাদেশে এক প্রভাবশালীর আশ্রয়ে আছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কমল চন্দ্রের প্রতারণা নিয়ে বেশ কজন প্রতারিত শ্রমিক মন্তব্য করায় তাদের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কমল চন্দ্র দাস। বাদশা মিয়ার ছেলে সজীব বলেন, কমল চন্দ্র দাসের প্রতারণায় আমার বাবা মারা গেছেন। আমাকে বিদেশ নেওয়ার জন্য বাবা সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন কমল চন্দ্রকে। বাবার ভিসার মেয়াদ বাড়াতেও টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুই না করে দেশে চলে আসে সে। এই শোকে বাবা মারাই গেলেন...! বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সজীব মিয়া।

বাদশা মিয়ার সহকর্মী আদম হোসাইন, মনির হোসেন ও আনোয়ার হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ার ক্যাংলামা এলাকায় কর্মস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বাদশা। ওই সময় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আরও জানান, ২০১৪ সালে কমল চন্দ্র দাসের মালিকানাধীন কোম্পানি এফকেআর ভূমি কনস্ট্রাকশন এসডিএন বিএইসডির মাধ্যমে ক্যাটাগড়ি ওয়ান ভিসায় ভাগ্যান্বেষণে মালয়েশিয়ায় যান বাদশা। শ্রমিক হলেও কমল তাকে বিজনেস পার্টনার হিসেবে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। পরে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ দেন একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে। বৈধভাবে দুই বছর অবস্থান করার পর তার ভিসা আর নবায়ন করা যায়নি।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাদশা মিয়া দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন। একটি ট্রাভেল পাস দেওয়ার জন্য কমল চন্দ্র দাসকে বারবার বলতে থাকেন। কিন্তু কমল বাদশার ভিসা হয়ে যাচ্ছে বলে ট্রাভেল পাস করিয়ে দেননি।

কমলের মতো এমন প্রতারক এখন সারা দেশে সক্রিয়। তাদের কারণে বাদশা মিয়ার মতো অনেক মানুষ দুনিয়া ছেড়েছেন। কেউ সব হারিয়ে পাগল প্রায়। সংসার পরিবার হারিয়ে তারা দিশাহারা।

up-arrow