Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার, আরও থাকতে পারে: আইজিপি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৯
বাঘের অপেক্ষায় সিলেট চিড়িয়াখানা
মোস্তফা কাজল, সিলেট থেকে ফিরে
বাঘের অপেক্ষায় সিলেট চিড়িয়াখানা

বাঘের অপেক্ষায় সিলেট চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই আনা হবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এভাবে অনেকটা পূর্ণতা পাবে সিলেট চিড়িয়াখানা। ফলে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ সিলেটের পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধি হবে। অন্যদিকে সিলেটের জনসাধারণ ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই চিড়িয়াখানাটি হবে একটি আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চারদিকে সুনসান নির্জনতা, দূরে  কোথাও অপরিচিত পাখির ডাক। খাঁচার ভিতর বিদেশি পাখি ফিজেন্ট, ম্যাকাও আর লাভবার্ডের দৌড়ঝাঁপ, সঙ্গে কিচিরমিচির আওয়াজ। ডোরাকাটা জেব্রা আর চিত্রল হরিণ। এ হচ্ছে সম্প্রতি সিলেটে যাত্রা শুরু হওয়া দেশের তৃতীয় বৃহৎ চিড়িয়াখানার চিত্র। বন বিভাগের জায়গায় চিড়িয়াখানাটি নির্মাণ হয়েছে। মহানগরীর টিলাগড় ইকোপার্কে নির্মিত এ চিড়িয়াখানাটিতে দর্শনার্থীর জন্য আনা হয়েছে নানা জাতের দেশি-বিদেশি প্রাণী ও পাখি। ইকোপার্ক ও চিড়িয়াখানায় প্রায় ৫০ প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ রয়েছে। ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরের মানুষদের বিনোদনের অভাব পূরণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করে দিতে চিড়িয়াখানাটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যাপ্ত প্রাণী ও পাখি না আসায় আগত দর্শণার্থীদের অনেকে হতাশ হয়েছেন। অন্যদিকে প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভিতর চিড়িয়াখানাটি স্থাপন করায় বনের মুক্ত প্রাণীদের নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশবাদীরা। দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণ যাতে মুক্ত প্রাণীদের জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হওয়ার তাগিদ তাদের। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, টিলাবেষ্টিত ১১২ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত ইকোপার্ক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের চিড়িয়াখানায় গাজীপুর জেলার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে আনা হয়েছে ৯ প্রজাতির ৫৮ প্রাণী। আগামী সপ্তাহে আসবে আরও দুটি চিত্রল হরিণ। শিগগিরই আনা হবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। চিড়িয়াখানার ভিতরের হাসপাতালে দেওয়া হবে অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসাসেবা। সপ্তাহের সাত দিনই ১০ টাকার প্রবেশ ফির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারবেন ইকোপার্ক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র ও চিড়িয়াখানাটি। গ্রীষ্মে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আর শীতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রতিদিন এ কেন্দ্র খোলা থাকবে।

 

তিনি জানান, এই চিড়িয়াখানায় বিদেশ থেকে আরও আসবে সিংহ, হনুমান, গন্ডার, এশীয় হাতি, পরিযায়ী পাখি, জলজ পাখি, বন ছাগল, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, কালো ভাল্লুক, মিঠাপানির কুমির, নীল গাই, জলহস্তী ইত্যাদি। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্র্রেলিয়া থেকে বেশির ভাগ প্রাণী দরপত্রের মাধ্যমে  কেনা হবে। ৪০ প্রজাতির প্রায় চার শতাধিক  প্রাণী ও পাখি ক্রয় করা হবে। এর মধ্যে ২০০ প্রাণীই থাকবে বিরল ও নতুন। এখানকার প্রাণী সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকেই করা হবে। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরও জানান, চিড়িয়াখানার প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও নানা ধরনের সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি  থেকে চিকিৎসা ও খাদ্যের মান পরীক্ষার জন্য আধুনিক মানের উপকরণ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে সিলেট চিড়িয়াখানা ছাড়াও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও দুটি চিড়িয়াখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে একটি রাজধানী ঢাকার মিরপুরে এবং অন্যটি রংপুর শহরে। পর্যটন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ সিলেটের পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে এ চিড়িয়াখানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow