Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার, আরও থাকতে পারে: আইজিপি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০০
দুই দিনে মামলা ১৪ হাজার, তবুও বিশৃঙ্খল সড়ক
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রাফিকের শৃঙ্খলা ফেরানোর অভিযানে বেড়েছে মামলার সংখ্যা ও জরিমানার পরিমাণ। তবুও যেন রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা চোখ এড়াচ্ছে না। কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী নিচ্ছে গণপরিবহনগুলো। বেশিরভাগ স্থানেই চলেছে রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠা-নামা। ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে রাস্তা পার হন পথচারীরা। তবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে ছিলেন ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্টরা।

ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীতে শুরু হওয়া ট্রাফিক পক্ষের দ্বিতীয় দিন গতকাল এমন চিত্র ছিল ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায়। পুলিশের এ কর্মসূচি চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দুদিনে ঢাকায় মামলা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। আর জরিমানা আদায় হয় ৬৮ লাখ টাকা। মামলা অধিকাংশই করা হয় মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে।

পথচারীরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু স্থানে জটলা বেধে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্টদের। তারা যেকোনো মোটরসাইকেল থামিয়ে নানা অজুহাতে মামলা দিচ্ছেন, জরিমানা করছেন। কিন্তু একই স্থানে গণপরিবহনগুলো এলোপাতাড়িভাবে চললেও দেখে না দেখার ভান করছেন।

 ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলেন, এবার ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন কিছুটা হলেও ঘটানো যাবে। আমরা যাত্রীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। বাসে উঠে যাত্রীদের ম্যাসেজ দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং তাদের বলছি, আপনারাও বাস চালকদের সচেতন করবেন যেন যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠাতে ও নামাতে না পারে। 

 

সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল সকাল ১১টার দিকে কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে চেকপোস্ট বসিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে দেখা যায়। ওই পথ দিয়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটি মোটরসাইকেল থামানো হয়। দেখতে চাওয়া হয় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও চালকসহ আরোহীর হেলমেট। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা গেলেও বেপরোয়া ছিল গণপরিবহনগুলো। এ সড়কে চলা তুরাগ, অনাবিল, রাইদা ও দেশবাংলাসহ প্রায় সব বাসই যেখানে-সেখানে রাস্তার মাঝখান থেকে যাত্রী ওঠা-নামা করায়। প্রতিটি গাড়িকেই নির্দিষ্ট স্টপেজের বাইরে দরজা খুলে চালাতে দেখা গেছে। ট্রাক ও হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রেও কোনো অভিযান চালাতে দেখা যায়নি। এদিকে দুপুরে বাংলামোটর মোড়ে সাধারণ পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়। বিকালে ফার্মগেট এলাকায় গণপরিবহনগুলো যত্রতত্রভাবে যাত্রী ওঠা-নামা করালে দেখা দেয় তীব্র যানজট। ফার্মভিউ মার্কেটের সামনে এক স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুজন সার্জেন্ট এবং দুজন ট্রাফিক কনস্টেবল। তারা যানজট নিরসনে কোনো কাজ না করলেও চারজনই ছিলেন মোটরবাইক থামানোর কাজে ব্যস্ত। একটা একটা করে থামাচ্ছেন, আর মামলা দিচ্ছেন। যানজট নিরসনে কেন কোনো পদক্ষেপ নেই- এমন প্রশ্নে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাসুদ বলেন, ‘কই কোনো বাসকে তো যত্রতত্রভাবে যাত্রী ওঠা-নামা করতে দেখছি না’।

রামপুরা ব্রিজে সায়মন নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, শৃঙ্খলা মেনে মোটরসাইকেল চালালেও রাস্তার মাঝখান থেকে তাদের থামানো হচ্ছে। অথচ ট্রাক, গণপরিবহন এবং মূল সড়কে ভ্যান-রিকশার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, প্রথম দিনের অভিযানে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৬ হাজার ৯০৯টি মামলা ও ৩৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৪০টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৮৪৯টি গাড়ি রেকার করা হয়। দ্বিতীয় দিন গত বুধবার ৬ হাজার ৭২২টি মামলা দায়ের করা হয়। জরিমানা হয় ৩১ লাখ ২ হাজার ১০০ টাকা।

ট্রাফিক পুলিশের পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-তেজগাঁও) ডা. মনজুর মোর্শেদ জানান, আমরা গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে বেপরোয়া গতি ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামার বিষয়টি লক্ষ করি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা দুটো ক্ষেত্রেই কাজ করছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow