Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৫
হুমকিতে লাউয়াছড়া
ধ্বংস হচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
মোস্তফা কাজল, শ্রীমঙ্গল থেকে ফিরে
হুমকিতে লাউয়াছড়া

অবৈধ দখল, অবাধে গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী নিধন ও জনবল সংকট- এ চার কারণে হুমকিতে পড়েছে লাউয়াছড়া উদ্যান। অভিযোগ- কতিপয় প্রভাবশালী মহল অবৈধ দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। প্রায় প্রতিদিন এ অসাধু চক্র বনের মূল্যবান গাছ কেটে নিচ্ছে। দখলের কারণে এ বনের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বনের হরিণ, পাখি ও খরগোশ শিকার করায় কমে যাচ্ছে এ বনের বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। 

১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পশ্চিম ভানুগাছের রিজার্ভ ফরেস্টের ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে বর্তমানে সরকারি এ বনভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রতিবছর অবৈধ দখলের পরিসর বাড়ছে। ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকট ও উদ্যানটির পরিধি কমছে। সরেজমিন লাউয়াছড়া উদ্যান ঘুরে জানা যায়, এ উদ্যানের ডরমেটরি টিলা সংলগ্ন পূর্ব এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে চার বছর ধরে লেবু বাগান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডরমেটরি এলাকার পশ্চিম পাশে অফিস সংলগ্ন আরও একটি টিলার প্রায় ১৫ একর জমি দখলে নিয়ে লেবু ও আনারস বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। লেবু বাগান ও আনারস বাগান ঘেঁষা টিলাগুলোতে গাছগাছালি, লতাগুল্ম ও টিলা কেটে নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এসব টিলায় টিনশেড ঘর তৈরি করা হয়েছে। ফলে এ উদ্যানের বাসিন্দা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে এসব বিষয়ে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী বিভাগের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। এ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধ দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তারা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব কাজ করে চলেছে। এ ছাড়া অপর একটি গ্রুপ রাতের আঁধারে এ বনের দামি গাছ-গাছালি কেটে নিচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় এ জাতীয় উদ্যানে মরছে নিশাচর বন্যপ্রাণী। বনের সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ির চাকায় নির্মমভাবে প্রাণ হারাচ্ছে তারা। কয়েক দিন আগে রাতে সড়ক পারাপারের সময় মারা যায় বিপন্ন প্রজাতির বুনো খরগোশ। এ ছাড়া এ উদ্যানের ১২ পদে জনবল না থাকায় প্রশাসনিক সংকট লেগেই আছে। জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমরা দখলের বিষয়ে খতিয়ে দেখছি। প্রমাণ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় নিশাচর বন্যপ্রাণীগুলো শীত মৌসুমে রাস্তার ওপর চলে আসে। কারণ শীতকালে পাহাড়ি এলাকার চেয়ে পাকা রাস্তার অংশটি অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে। সেক্ষেত্রে তারা রাস্তার ওপর এসে স্বস্তিবোধ করে। গাড়ি যখন আসে তখন গাড়ির হেডলাইটের আলো বন্যপ্রাণীদের চোখে পড়ায় তারা দিশাহারা হয়ে যায়। তখনই চাকার নিচে পড়ে প্রাণ হারায় তারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow